আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলছেন ঠিকাদারের কর্মচারী
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন

আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলছেন ঠিকাদারের কর্মচারী

আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলছেন ঠিকাদারের কর্মচারী
বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের সাথে ঝুলছেন কর্মচারী

আনোয়ারায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া না গেলেও আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোরশেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আহত ব্যক্তি বিদ্যুতের ঠিকাদারের লোক। তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের বৈদ্যুতিক সংযোগের খুঁটিতে কাজ করছিলেন।"

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় ২-৩ জন লোক বিদ্যুতের কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন খুঁটির ওপর ট্রান্সফরমারের কাছে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের তারের কাছাকাছি উঠে যান। হঠাৎ ওই ব্যক্তি শর্টসার্কিট হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ট্রান্সফরমারের সাথে ঝুলতে থাকেন। সাথে সাথে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।




আনোয়ারা হাসপাতালের জেনারেটরের জ্বালানিসংকট নিরসনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ২০০ লিটার তেল! কর্তৃপক্ষের অস্বীকার

আনোয়ারা হাসপাতালের জেনারেটরের জ্বালানিসংকট নিরসনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ২০০ লিটার তেল! কর্তৃপক্ষের অস্বীকার
আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর তেলের গাড়ি

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, তেলসংকটে হাসপাতালের জেনারেটর অলস পড়ে থাকা ও গরমে রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং ফেসবুকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি (ডিজেল) নিয়ে একটি ভ্যানগাড়ি আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হয়। পরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির একান্ত সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম সাংবাদিকদের খুদে বার্তায় এই তেল সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পক্ষে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি ভ্যানে করে কিছু তেল হাসপাতালে রেখে গেছেন। নাম-পরিচয় না জানায় আমরা ওই তেল এখনো গ্রহণ করিনি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ লাখ টাকায় ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর সরবরাহ করে। পরে ২০২৪ সালে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি ৩০ কেভি ক্ষমতার আরও একটি জেনারেটর দেন হাসপাতালে। তবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় কোনো জেনারেটরই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি সারা দেশে তীব্র বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ে। হাসপাতালে দুটি জেনারেটর থাকলেও জ্বালানিসংকটের কারণে এসব জেনারেটর চালানো সম্ভব হয় না। এ নিয়ে ফেসবুক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ভ্যান হাসপাতালে আসে। পরে এক যুবক ওই তেল হাসপাতালের কর্মকর্তাদের দিয়ে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির একান্ত সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম সাংবাদিকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তায় জানান, ‘সম্প্রতি হাসপাতালে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ও রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকে প্রচার হলেও কেউ এগিয়ে না আসায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ রোগীদের কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর চালানোর জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ লিটার জ্বালানি তেল পাঠিয়েছেন। এসব তেল দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত জেনারেটর চালানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, আমরা তা সরবরাহ করব।’ তিনি আরও জানান, ‘মানবতার জন্য রাজনীতি লাগে না, মানবতা সকল দল-মতের ঊর্ধ্বে।’

তবে এ বিষয়ে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দুপুরে একটি ভ্যানে করে কিছু তেল হাসপাতালে রেখে গেছে। তেল সরবরাহকারীদের নাম-পরিচয় না দেওয়ায় বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ ছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম সাহেবও তেলসংকটের বিষয়টি সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।’




সাতকানিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি: ১১ দিনে দুই খুন, সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি; বেড়েছে কিশোর গ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন

সাতকানিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি: ১১ দিনে দুই খুন, সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি; বেড়েছে কিশোর গ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একের পর এক হত্যা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড, দুই সাংবাদিকের বাড়িতে চুরি ও ডাকাতি এবং বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধীদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠলেও দৃশ্যমানভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার এক সাংবাদিকের বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 'সময়ের কণ্ঠস্বর'-এর সাংবাদিক মো. জাহেদুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রিল কেটে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটলেও আশপাশের কেউ টের পাননি। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর কয়েক দিন আগে সাতকানিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক 'আমার দেশ'-এর সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবরের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফেলে রেখে যায়।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টারে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হন তাহমিদুল হাসান হামীম (১৯)। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে কিশোরদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বিরোধ মীমাংসার জন্য কেরানীহাট সিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি চায়ের দোকানে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে হামীম প্রথমে লোহার রড দিয়ে রোহান উদ্দিনের হাতে আঘাত করেন। পরে রোহান সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হামীমের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে অভিযুক্ত রোহানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

গণপিটুনির পর স্থানীয়দের ধারণ করা একটি ভিডিওতে রোহান দাবি করেন, হামীমের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে উত্তেজনার মধ্যে তিনি ছুরিকাঘাত করেন। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ছদাহা ইউনিয়নের হাসমত আলী সিকদার দোকানসংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গত এক থেকে দুই বছরে সেখানে মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই কয়েকটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট রাতে পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় এলাকায় জাহেদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি জাহেদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আহত হন তাঁর বন্ধু ওয়াহিদ। হত্যার চার দিন পর নিহতের মা বাদী হয়ে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন ওরফে মিষ্টি জসিমকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অপরাধীদের একটি অংশ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংগুলো দিন দিন আরও সংঘবদ্ধ হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিশেষ করে কেরানীহাট, ছদাহা, পুরানগড়, হাসমত আলী সিকদার দোকানসংলগ্ন এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবর বলেন, কেরানীহাট এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করেন। প্রশাসনের আরও কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা প্রয়োজন।

এদিকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি অপরাধী, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না; জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




আনোয়ারায় চৌমুহনী বাজারের ইজারাদারের ব্যবস্থাপককে পিটিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ

আনোয়ারায় চৌমুহনী বাজারের ইজারাদারের ব্যবস্থাপককে পিটিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে দোকান দখলকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও বাজারের ইজারাদারের ব্যবস্থাপকের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং বাজারের দৈনিক তোলা আদায়ের নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ জাগির আহমদের ব্যবস্থাপক মো. হেলাল চৌধুরী (৩৫) বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল ৫টার দিকে চাতরী চৌমুহনী বাজারের মুদি দোকানদার মো. রুবেলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন, স্থানীয় মো. দেলোয়ার ওরফে ভাঙা দেলোয়ার (৪২), মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে দোহা শহীদ (৪৫), আবদুল হামিদ ওরফে সুমন (৫২), ইসহাক ওরফে মনু (২৬) এবং মো. ওসমান (৩৮)।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী মো. রুবেলের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জের ধরে আসামিরা রুবেলের বরাদ্দকৃত দোকানটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো কিরিচ, লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে রুবেলের মুদি দোকানে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে রুবেলকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। খবর পেয়ে ইজারাদারের ব্যবস্থাপক হেলাল চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং পিটিয়ে আহত করে। এ সময় আসামি দেলোয়ার ও শহিদুল হেলাল চৌধুরীর পকেটে থাকা ইজারা আদায়ের নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দোকানে তাণ্ডব চালিয়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে দোকানের টিন, বাঁশ ও কাঠের খুঁটিসহ অবকাঠামো খুলে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাজারের ইজারাদার মো. জাগিরসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চাতরী চৌমুহনী বাজারের ইজারাদার মো. জাগির আহমদ বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমি ছিলামও না। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। ব্যবসায়ীদের কাছে তারা চাঁদা না পেয়ে হামলা করে তা দখলে নিতে চেয়েছিল। ঘটনার দিনের ভিডিওচিত্রে তার প্রমাণ রয়েছে।’

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।