আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান
ছবি সংগৃহীত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সমর্থন পেলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং দায়বদ্ধ সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, “আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেবে এবং দেশে আইনের শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে প্রচারিত এই ভাষণে তারেক রহমান তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক। ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি তিনি নিজেই নিশ্চিত করবেন।

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আজ রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত।” তিনি শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ‘বেকার ভাতা’ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী প্রধানদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিদেশে অবস্থানকালীন এবং দেশে ফেরার পরবর্তী অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে অতীতে আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বেকারত্ব নিরসনে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ‘ফার্মার্স কার্ড’ এবং আইটি সেক্টরকে সমৃদ্ধ করতে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সারাদেশে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। ভাষণ শেষে তিনি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।




প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলো জামায়াত

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলো জামায়াত
ছবি সংগৃহীত।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবগত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়।

জামায়াতের মিডয়া উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি আপনার (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাখিল করা হলো।

উল্লেখ্য, গতকাল ২২ জুলাই বিরোধীদলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এমপি গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




‘এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী’: হাসনাত আবদুল্লাহ

‘এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী’: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী সব জায়গায় গিয়ে বলেন- নকল আর চলবে না। ২০২৬ এর শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে- এই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না। হাঁটুসমান পানিতে, বুকসমান পানিতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ডুবিয়ে ডুবিয়ে আপনি পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। একটা পরীক্ষার প্রশ্ন আপনি প্রণয়ন করেছেন, তার মধ্যে আপনি ভুল রেখে দিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থীর তখন মানসিক অবস্থা কী ধরনের হয়, একবার চিন্তা করেন। আপনারা একবার দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজনও বোধ করলেন না, বরং এই শিক্ষার্থীদের আপনারা বলছেন মাদকাসক্ত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, আপনি যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমে এসেছে বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগি রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে বলবো, শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কারণ আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না, তাদের বিদেশে রেখে পড়াশোনা করান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভের সঙ্গে বললেন, সংবিধান সংস্কার কমিটি— এটা নাকি কোনো সংবিধানে নেই। এটা যদি সংবিধানে না থেকে থাকে, ২০২৬ সালের নির্বাচনও কোনো সংবিধানে ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার থাকার কথা ছিল শিলংয়ে। সংবিধান অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীর থাকার কথা ছিল ধানক্ষেতে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীর চালানোর কথা ছিল ঢাকা শহরে রিকশা। এই সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে, এই সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভিমুখ তারা সেট করেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আপনারা ছাত্র-জনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী— এই সমগ্র অঞ্চলের আমার ভাইয়েরা বন্যার মধ্যে কষ্ট পাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়- দীর্ঘ সাত দিনের বেশি বন্যা আক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত সব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি।

সোনারগাঁয়ে এমপির ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই সোনারগাঁয়ে যিনি এমপি রয়েছেন, তার ছেলে চাঁদাবাজির কারণে থানায় গিয়ে মুচলেকা দিতে হয়েছে। বাপ হচ্ছে এমপি, ছেলে করে চাঁদাবাজি, থানায় গিয়ে দেয় মুচলেকা।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সারা বাংলাদেশে গ্যাসের হাহাকার, কিন্তু আমরা দেখলাম রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গ্যাস লাইনের অবৈধ সংযোগ নিয়ে কিছু কারখানা প্রতি বছর লাখ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। আরেকটা গ্রুপ রয়েছে, বসুন্ধরা—তারা শত শত মাইল জমি দখল করে নিচ্ছে এবং তাদের কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে সেসবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ২০০ টাকা আয় করলে ৫০ টাকা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলকে চাঁদা দিতে হয়, স্থানীয় এমপিদের চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির বাংলাদেশ আর চলবে না। আপনারা যদি মনে করেন এই চাঁদাবাজির যাত্রা অব্যাহত রাখবেন, মনে করার দরকার নেই এভাবে বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারবেন। হাসিনার হয়তো ১৭ বছর লেগেছে। প্রতি বছর জুলাই হয় না, কিন্তু যখন জুলাই হয়, তখন পালানোর জায়গা পাবেন না।

পথসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তুহিন মাহমুদ, সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র পদে মোস্তফা এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে শাকিল সাইফুল্লাহকে এনসিপির পক্ষ থেকে সমর্থন দেন। 




বিরোধী দলের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে: রিজভী

বিরোধী দলের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলছে। অথচ তাদের নিজেদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে দেশবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


রিজভী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী যুগোপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে আর পরনির্ভরশীল অবস্থায় রাখা হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।


রিজভী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে গুম নেই, ক্রসফায়ার নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাও নেই। আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।