৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়, যা বললেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়, যা বললেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা

৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়, যা বললেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

সরকারের দায়িত্বে থাকাকালীন চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগের চিকিৎসায় সরকারের কাছ থেকে ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে খালিদ হোসেন দাবি করেছেন, তার চিকিৎসা ব্যয় আইন অনুযায়ীই হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে খালিদ হোসেন বলেন, কয়েকটি মিডিয়ায় তার উপদেষ্টা থাকাকালীন চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব সংবাদের উপস্থাপন বা মিডিয়া ফ্রেমিং নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়ার বিধান রয়েছে।

খালিদ হোসেন বলেন, বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, এরপর সরকারের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় বিল, রসিদ ও ভাউচার জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে অর্থ পরিশোধ করা হয়।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৫ সালে তার হার্টে স্টেন্ট বসানো হয় এবং এ পর্যন্ত পাঁচবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে।

সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর দেশে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ডের পরামর্শে তার অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ধরা পড়ে। পরে ক্যাথেটার এবলেশন নামের জটিল অপারেশনের প্রয়োজন হয় জানানো হলে, দেশে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হলেও হৃদপিণ্ডে রক্ত জমাট থাকায় প্রথমে চিকিৎসার মাধ্যমে তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খালিদ হোসেন বলেন, প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যার সব বিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জানুয়ারি মাসে তার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং বামরুনগ্রাড হাসপাতালে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।

এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খালিদ হোসেন সরকারি অনুমোদন নিয়ে গত বছরের শেষ দিকে এবং চলতি বছরের প্রথম দিকে তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য যান। প্রথমবার তার সঙ্গে একজন চিকিৎসক ছিলেন, পরবর্তী সময়ে সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ও মেয়ের স্বামী।

খালিদ হোসেন দাবি করেন, সরকার শুধু হাসপাতালের বিল, অপারেশন ও ওষুধের ব্যয় বহন করেছে। তার সঙ্গে যাওয়া সহযাত্রীর খরচ, হোটেল, খাবার ও যাতায়াত ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থের কোনো অপব্যবহার বা তছরুপ থেকে তিনি নিজেকে বিরত রেখেছেন। কিছু মিডিয়া বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যাতে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়। এ ধরনের সংবাদ ও মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের নিন্দা জানান তিনি।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।