২২ বছরের রুমা প্রেসক্লাবে সভাপতি শৈহ্লাচিংয়ের আধিপত্য, বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিন সদস্যের পদত্যাগ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

২২ বছরের রুমা প্রেসক্লাবে সভাপতি শৈহ্লাচিংয়ের আধিপত্য, বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিন সদস্যের পদত্যাগ

২২ বছরের রুমা প্রেসক্লাবে সভাপতি শৈহ্লাচিংয়ের আধিপত্য, বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিন সদস্যের পদত্যাগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রুমা প্রেসক্লাবে এবার প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে গভীর অভ্যন্তরীণ সংকট। সংগঠনের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, বৈষম্যমূলক আচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও অস্বস্তিকর পরিবেশের অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন প্রেসক্লাবের তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ ১৫ মে শুক্রবার সকালে প্রেসক্লাবের এক জরুরি আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে তারা পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগকারী সদস্যরা হলেন— রুমা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মংহাইথুই মারমা, কার্যনির্বাহী সদস্য অংবাচিং মারমা এবং সদস্য উবাসিং মারমা। তারা প্রেসক্লাবের সভাপতি বরাবর লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নিয়েছেন।

জানা গেছে, কোষাধ্যক্ষ মংহাইথুই মারমা দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন ও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। কার্যনির্বাহী সদস্য অংবাচিং মারমা কর্মরত রয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক নতুন সময় ও আঞ্চলিক দৈনিক দেশের কথা পত্রিকায়। অন্যদিকে সদস্য উবাসিং মারমা কাজ করছেন দ্য ডেইলি অবজারভার (The Daily Observer), দৈনিক সংবাদ সারাবেলা ও আঞ্চলিক দৈনিক চট্টলা পত্রিকায়।

এর আগেও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমা পদত্যাগ করেছিলেন এবং সে সময় তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছিল।

পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পরও বর্তমান কমিটির নানা কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সাংগঠনিক পরিবেশ নিয়ে তারা গভীরভাবে হতাশ। বিশেষ করে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং একক কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক ও সুস্থ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসক্লাবের ভেতরে এমন কিছু নীতিমালা ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন চর্চার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে নৈতিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকেই তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তবে পদত্যাগের মধ্যেও দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে রুমা প্রেসক্লাব সব ধরনের বৈষম্য, বিভাজন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আদর্শ সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

রুমা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, “আমি উল্লিখিত তিনজনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি।”

স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অভিমত, একসঙ্গে তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পদত্যাগ রুমা প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংকটকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে সংগঠনের নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, এই পদত্যাগপত্রের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জোন কমান্ডার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”