হাটহাজারীর নূরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার গ্রেপ্তার
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

হাটহাজারীর নূরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার গ্রেপ্তার

হাটহাজারীর নূরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীতে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর মো. নূরুল আজিম প্রকাশ আজম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ এলাকায় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত দিদার হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নিহত আজম মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা পাড়া এলাকার মরহুম নূরুল ইসলামের পুত্র এবং তিনি পেশায় একজন দর্জি ছিলেন।

জানা যায়, বাড়ির পার্শ্ববর্তী জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মেয়েকে নিয়ে মাছ ধরতে যান আজম। সেখানে আজমের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি তার। প্রথমে পায়ে গুলি, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আজমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান আসামি দিদারুল আলম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজীজ জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় ও তৃতীয় নম্বর আসামিকে ঘটনার দিনই উপজেলার গড়দুয়ারা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে মূল হোতা দিদারুল আলম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। সে একেক সময় একেক জায়গায় অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর পুলিশ জানতে পারে প্রধান আসামি দিদার গত ১ তারিখে কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি নতুন ভাড়া বাসায় ওঠে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামিকে সোমবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে দিদারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে। নিহতের স্ত্রী বলেন, "এই দিদার আজকে আমার পরিবারকে শেষ করেছে, কালকে আরেকজনের পরিবারকে শেষ করবে। দিদারের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ একদিনে জন্মায়নি। দিদার কথায় কথায় মানুষের ওপর আক্রমণ করে। আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত দিদারসহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা তাদের ফাঁসি চাই। তারা যেন জেল থেকে বের হয়ে আর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে। তাদের বিচার হলে আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে। তাদেরকে এমনভাবে শাস্তি দিতে হবে যেন আর কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ড করতে সাহস না পায়।"




হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা—নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা

হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা—নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটিকছড়ি সফরকে ঘিরে পুরো এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সফরস্থল, সংযোগ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় চলছে কঠোর নজরদারি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগরের সংশ্লিষ্ট সড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরস্থল একাধিকবার পরিদর্শন করে নিরাপত্তার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেছেন।

ফটিকছড়ির পাইন্দংয়ের পেলাগাজী দিঘি হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা চৌকি ও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সফরপথের আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের কয়েকটি ভেন্যুতে সফর রয়েছে। সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভেন্যু ও সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’




সাংসদ সরওয়ার আলমগীরের মা খাদিজা নূরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক

সাংসদ সরওয়ার আলমগীরের মা খাদিজা নূরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরের মা এবং মরহুম নূর আহমদ ইঞ্জিনিয়ারের সহধর্মিণী খাদিজা নূর (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর তাঁর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত ৯টায় মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মায়ের রুহের মাগফিরাতের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে খাদিজা নূর চার ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

খাদিজা নূরের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরী, ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব, 'ফটিকছড়ি প্রতিদিন' পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়।




ফটিকছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে বেকারি পুড়ে ছাই

ফটিকছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে বেকারি পুড়ে ছাই
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারির প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাজারের বড়ইতলী সড়কে অবস্থিত শহীদ বেকারিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও আগুন দ্রুত পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।

পরে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বেকারির যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বেকারির মালিক।

বেকারির মালিক শহীদ বলেন, “দুপুরে কিছু সময়ের জন্য আমি কারখানার বাইরে ছিলাম। এ সময় এক কর্মচারী আগুন লাগার খবর দেন। এসে দেখি, পুরো কারখানা আগুনে জ্বলছে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই এ আগুনের সূত্রপাত।”

তবে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ পংকজ কুমার বড়ুয়া বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। উপজেলা সদর থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।”