স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঈদগাঁওয়ে মহাসড়কের ওপরই পশুর হাট, বার্মিজ গরুর বৈধতা!

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রশাসনিক প্রহরায় শনিবার থেকে শুরু হয়েছে আসন্ন কোরবানির ঈদের পশুর হাট। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দুপুরের পর থেকে গাড়ি আটকে পড়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ইজারাবিহীন খাস কালেকশনের কক্সবাজারের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও গরুর হাট। দেশব্যাপী মহাসড়কের উভয় পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও প্রথম পশুর হাটটি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও প্রহরায় মহাসড়কের উভয় পাশেই বসেছে। যার দরুন দুপুরের পর থেকেই মহাসড়কের ঈদগাহ কলেজ গেট থেকে ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে কোরবানির পশুর হাট বসার কারণে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খোদ উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সড়কের পশ্চিম পাশে প্যান্ডেল তৈরি করে তাতে অবস্থান নিয়ে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন, তবে কি উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন? সড়কের উভয় পাশে পশুর বাজার ও অনুমোদনহীন পশুর আড়তের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী দূরপাল্লার যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি আটকে থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবহন যাত্রী, ঈদগাঁও স্টেশনের ব্যবসায়ী ও হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
এদিকে বাজারফেরত সচেতন জনগণের মুখে মুখে একটি কথা রটেছে, খাস কালেকশনের সুযোগে একটি চক্র উপজেলা প্রশাসনের খাস কালেকশন আদায় রশিদের আদলে ভুয়া রশিদ ছাপিয়ে টাকা লুটপাট করছে। অপরদিকে নিয়মিত রাতের বেলায় ঈদগাঁওয়ের পাহাড়ি তিন পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করা অবৈধ বার্মিজ গরুগুলো উপজেলার খাস কালেকশনের রশিদে কীভাবে বৈধতা পাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—তবে কি ভুয়া রশিদের মাধ্যমে টাকা লুটপাটে এবং উপজেলার রশিদে বার্মিজ গরুর বৈধতা দেওয়ার পেছনে উপজেলা প্রশাসনের সাথে গরু পাচারকারীদের যোগসাজশ রয়েছে? তা না হলে খাস কালেকশনের রশিদ কীভাবে এসব অবৈধ পথে আসা গরুর জন্য ব্যবহারের সুযোগ পায়, এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। দৈনিক এসব অবৈধ গরুকে বৈধতার নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট চললেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।
এদিকে মহাসড়কে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা সড়ক থেকে বাজার সরানোর নামে কিছু সময় ‘আইওয়াশ’ করেন। পরে যথারীতি সড়কেই প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাজার অব্যাহত থাকে।
উপর্যুক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে বারবার কল দিলেও তাঁরা রিসিভ করেননি। খাস কালেকশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুল জাব্বারের মোবাইল নম্বর পশুর হাট শেষের পর থেকেই বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে কারও কাছ থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।







