স্কুলমাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে রেললাইনের ওপর বা রেলের অধিগ্রহণকৃত জমি এবং স্কুলসংলগ্ন মাঠে পশুর হাট বসানোর জন্য একাধিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ একই বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলিতেই এসব স্থানে হাট বসানো নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি শর্তাবলির সঙ্গে প্রকাশিত স্থান তালিকার এমন অসামঞ্জস্য প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি বিশেষ কোনো মহলের প্রভাব তা স্পষ্ট করা জরুরি।
শর্তাবলিতে নিষেধ, তালিকায় অনুমোদন
ইজারা বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলির ২ ও ২১ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, রেললাইন বা রেলের অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোনো বাজার বা হাট বসানো যাবে না। কিন্তু একই বিজ্ঞপ্তির ১৩ নম্বর সিরিয়ালে শাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে অস্থায়ী পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী রেললাইনসংলগ্ন এবং রেলের অধিগ্রহণকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া শর্তাবলির ৭ ও ২৬ নম্বর ধারায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ বা মাঠসংলগ্ন স্থানে অস্থায়ী বাজার বা হাট বসানো নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির স্থান তালিকায় নিম্নোক্ত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন মাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইলিশিয়া উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ, রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ, উত্তর বরইতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ এবং হারবাং ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শর্তাবলি উপেক্ষা করে এসব স্থান কীভাবে অনুমোদন পেল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, একই বিজ্ঞপ্তির ভেতরে এমন সাংঘর্ষিক তথ্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বললেও অনেকে মনে করছেন এটি পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
এটি কি শুধুই প্রশাসনিক অসাবধানতা? নাকি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের ফল? নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে?
সচেতন মহল চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির লিখিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসম্মুখে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও শর্তাবলির মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা উচিত, যাতে ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বজায় থাকে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, "এসব স্থানে দীর্ঘদিন থেকে বাজার নিলাম ও ইজারা হয়ে আসছিল, তাই স্কুলসংলগ্ন মাঠ ইজারা দেওয়া হয়েছে।"







