সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নাইক্ষ্যংছড়ির ভালুকিয়া এলাকার তিনজন নিহত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নাইক্ষ্যংছড়ির ভালুকিয়া এলাকার তিনজন নিহত

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নাইক্ষ্যংছড়ির ভালুকিয়া এলাকার তিনজন নিহত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন চাকমা নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২-এর মাঝামাঝি জায়গায় দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশি তিনজন আহত হওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজনের সমন্বয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।

নিহতরা হলেন—লেয়ারা চাকমা (৪১), পিতা: সুনইয়ং চাকমা; অংকেমং চাকমা (৫০), পিতা: মৃত নিওমং চাকমা এবং চিংকা অং চাকমা (৪০), পিতা: অইমং চাকমা। তাদের সবার বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া গ্রামে।

স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমার অংশে সে দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতরা ওই এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে গেলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে অপর একটি সূত্র দাবি করেছে, তারা চোরাই পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ওই দিন মাদকদ্রব্য আনতে গিয়ে এই ঘটনার কবলে পড়েন।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি সদস্য, গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”