সীতাকুণ্ড উপকূলে ‘ব্লু ইকোনমি’র সম্ভাবনা, খুলছে নতুন দিগন্ত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

সীতাকুণ্ড উপকূলে ‘ব্লু ইকোনমি’র সম্ভাবনা, খুলছে নতুন দিগন্ত

সীতাকুণ্ড উপকূলে ‘ব্লু ইকোনমি’র সম্ভাবনা, খুলছে নতুন দিগন্ত
ছবি সংগৃহীত।

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে বিকশিত হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক প্রবণতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূল ক্রমেই সম্ভাবনাময় একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলে বিদ্যমান শিপব্রেকিং ও শিপইয়ার্ড খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করা গেলে দেশের শিল্প অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে বলে তারা মনে করেন। এই উপজেলায় ১২৪টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড (জাহাজভাঙা কারখানা) রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা এই শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা ১২৪টি শিপইয়ার্ডকে পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে, শক্তিশালী হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থান।

সম্প্রতি সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় নবনির্মিত ‘সাগরিকা গ্রিন শিপইয়ার্ড’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী শিপব্রেকিং শিল্পের আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড অঞ্চলের শিপইয়ার্ডগুলো দেশের অবকাঠামো ও ইস্পাত খাতের কাঁচামালের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করছে। ধাপে ধাপে এসব ইয়ার্ডকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কাঠামোর আওতায় আনা গেলে খাতটি আরও টেকসই ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আকার কয়েক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ সমুদ্রপথে সম্পাদিত হয় এবং বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমুদ্রনির্ভর।

বাংলাদেশ ২০১২ ও ২০১৪ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি রায়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি সমুদ্র অঞ্চলে সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, যা দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে মৎস্য আহরণ, উপকূলীয় কার্যক্রম, জাহাজ নির্মাণ ও ভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এসব খাতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা সময় ও উৎসভেদে ভিন্ন হতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) বলছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হবে, যার বড় অংশ অভ্যন্তরীণ উৎস ও বেসরকারি খাত থেকে আসতে হবে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পরিবেশবান্ধব ও এসডিজি-ভিত্তিক বন্ড ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ড মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, শিপব্রেকিং ও শিপ রিসাইক্লিং শিল্প দেশের ইস্পাত ও নির্মাণ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ করে। যথাযথ নীতিগত সহায়তা, আধুনিকায়ন এবং পরিবেশগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা গেলে এ খাত অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তারা আরও মনে করছেন এই সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে হলে সরকারি নীতিসহায়তা, নিরাপদ শ্রম পরিবেশ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুনা সাহা বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার শিপব্রেকিং ও শিপইয়ার্ড শিল্প দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, এ খাতের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় অংশ সমুদ্রকেন্দ্রিক হওয়ায় বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সীতাকুণ্ড উপকূলভিত্তিক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

রুনা শাহা আরও বলেন, সামুদ্রিক অর্থনীতিভিত্তিক এ শিল্প দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ খাতে অর্থায়নে পুঁজিবাজারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিনিয়োগনির্ভর ‘ব্লু বন্ড’ বা ‘গ্রিন বন্ড’-এর মতো আর্থিক উপকরণ চালু করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।