সাফল্যের চার বছর: উন্নয়ন ও প্রযুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল রেডিও সৈকত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

সাফল্যের চার বছর: উন্নয়ন ও প্রযুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল রেডিও সৈকত

সাফল্যের চার বছর: উন্নয়ন ও প্রযুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল রেডিও সৈকত
ছবি সংগৃহীত।

গত ১ জুন কমিউনিটি রেডিও ‘রেডিও সৈকত’ চার বছর পূর্ণ করে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ১৫ জুন বিকেল ৩টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অরুণোদয় স্কুলের মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।

তিনি বলেন, “সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকলে এবং আমরা প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হলে পরিবেশের ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসবে।” ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্যদের সচেতন করার আগে নিজেদের সচেতন হওয়া জরুরি। নীতি ও অনুশাসন মেনে চললে সমাজের অধিকাংশ সমস্যাই কমে আসবে। মাদক ও মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ নির্মূলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় না চাপিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান এমপি কাজল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার। তিনি বলেন, “রেডিও মানুষের আবেগ ও আস্থার একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার প্রধান শক্তিই হলো তথ্য প্রচার ও জনসচেতনতা সৃষ্টি। কক্সবাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করে জনগণকে সচেতন করতে পারলে এই রেডিওর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজারের উপআঞ্চলিক পরিচালক আবু সাইদ মো. নাজমুল হাসান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, শিক্ষাবিদ অজিত দাস, সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ, সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, কক্সবাজার জেলা এনসিপি সদস্যসচিব মো. ওমর ফারুক, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) ও সিবিএন-এর বার্তা সম্পাদক ইমাম খাইর, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহানারা ইসলাম, চ্যানেল আই প্রতিনিধি সরওয়ার আজম মানিক, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিল, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোরশেদুর রহমান খোকন, জেলা বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাকি এ কাউসার, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যাপক শারমিন সিদ্দীকি লিমা, হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান, সমাজকর্মী আব্দুর রহমান হাশেমী ও সাহাবুদ্দীনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে রেডিও সৈকতের অবদান, দুর্যোগে নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার কার্যক্রম এবং শ্রোতাক্লাবের সদস্যদের রেডিও সৈকতের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

হিমেল রায় বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” এই ধরনের কার্যক্রম আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং সমাজে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে রেডিও সৈকত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এনসিপি নেতা রায়ান কাশেম বলেন, “সাগরে জেলেদের জন্য জারি করা নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা, কক্সবাজারের তরুণদের উন্নয়ন এবং দুর্যোগ সচেতনতামূলক বিষয়গুলো রেডিও সৈকতের মাধ্যমে আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।”

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের বার্তা প্রচারের লক্ষ্যেই রেডিও সৈকত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উপকূলের নানা সমস্যার পাশাপাশি এখন মাদক ও পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।”

সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “কক্সবাজারের সমুদ্রের স্বকীয়তা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সমস্যাগুলো রেডিওতে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজারের উপআঞ্চলিক পরিচালক আবু সাইদ মো. নাজমুল হাসান বলেন, “রেডিও সৈকতের নাম এবং এর আকর্ষণীয় ৯৯.০ এফএম ফ্রিকোয়েন্সি শ্রোতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে। গত এক বছরে স্টেশনটি প্রায় ৩০০টি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও সম্প্রচার করেছে।”

আলোচনা পর্ব শেষে কেক কাটার মাধ্যমে রেডিও সৈকতের বর্ষপূর্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় শিল্পী শাহীন আবরার এবং স্থানীয় বেতার শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রেডিও সৈকতের বিগত চার বছরের বিভিন্ন সংবাদ পর্যালোচনা ও প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন স্টেশন ম্যানেজার উম্মে হানি জেরিন। পরিশেষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলমের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও খালের ওপর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনসাধারণের কোনো কাজে না এসে এখন উল্টো জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই মই তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।

১৭ জুলাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুতে ওঠানামার জন্য বড় একটি মই স্থাপন করেন। মুহূর্তেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় পাঁচ বছর আগে ঈদগাঁও খালের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। কিন্তু উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি আজও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন আর যাত্রীদের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত হটস্পট—হিমছড়ি, খেত ও সাঁততরা ডালা অতিক্রম করতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে যাতায়াত করেন। বিকল্প এই সেতু চালু হলে লাখো মানুষ নিরাপদ পথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঁচ বছর ধরে কোটি টাকার সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই সেতু চালু করা এখন জনগণের প্রাণের দাবি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল জানান, পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বانের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকলেও মানুষের চলাচলের প্রয়োজন থেমে নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অস্থায়ী মই বেয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? কোনো প্রাণহানির পর কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চালু করা হোক। এতে শুধু পাঁচ বছরের দুর্ভোগের অবসানই হবে না, বরং ডাকাতি-অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ঈদগাঁও-ঈদগড়সহ পাহাড়ি জনপদের লাখো মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।




কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল

কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আতাহার ইকবাল (৭৪) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

২১ জুলাই মধ্যরাত ১টার দিকে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোক জনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও একজন মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে। 
বুধবার বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। 

আতাহার ইকবাল একাধারে সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, বেতার উপস্থাপক সর্বোপরি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু। 
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আতাহার ইকবাল কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরংগ, সাগর বানী দৈনিক বাকখালীর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুর্বকোন দৈনিক নয়াবাংলা ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ দৈনিক মানবজমিন দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভুমিকায়। 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘকাল তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জড়িত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের সাথে। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সেক্রেটারি এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যান। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর দীর্ঘদিনের সভাপতি। 

শোক প্রকাশ:
সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। 
শোক বার্তায় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান কক্সবাজারের গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারালো।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান নেতৃবৃন্দ। 

মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়ার আর্জি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমীন।




টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে ব্র্যাক ব্যাংক পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে টানা সাত দিন ধরে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাংশে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি ব্যাংক ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আকবার সওদাগর ও জসিম উদ্দিন সওদাগর বলেন, টানা সাত দিন ধরে পানি জমে থাকায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল আলিম, কাশেম ও তৌহিদের নেতৃত্বে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।