সাফল্যের চার বছর: উন্নয়ন ও প্রযুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল রেডিও সৈকত

গত ১ জুন কমিউনিটি রেডিও ‘রেডিও সৈকত’ চার বছর পূর্ণ করে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ১৫ জুন বিকেল ৩টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অরুণোদয় স্কুলের মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
তিনি বলেন, “সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকলে এবং আমরা প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হলে পরিবেশের ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসবে।” ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্যদের সচেতন করার আগে নিজেদের সচেতন হওয়া জরুরি। নীতি ও অনুশাসন মেনে চললে সমাজের অধিকাংশ সমস্যাই কমে আসবে। মাদক ও মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ নির্মূলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় না চাপিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান এমপি কাজল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার। তিনি বলেন, “রেডিও মানুষের আবেগ ও আস্থার একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার প্রধান শক্তিই হলো তথ্য প্রচার ও জনসচেতনতা সৃষ্টি। কক্সবাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করে জনগণকে সচেতন করতে পারলে এই রেডিওর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজারের উপআঞ্চলিক পরিচালক আবু সাইদ মো. নাজমুল হাসান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, শিক্ষাবিদ অজিত দাস, সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ, সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, কক্সবাজার জেলা এনসিপি সদস্যসচিব মো. ওমর ফারুক, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) ও সিবিএন-এর বার্তা সম্পাদক ইমাম খাইর, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহানারা ইসলাম, চ্যানেল আই প্রতিনিধি সরওয়ার আজম মানিক, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিল, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোরশেদুর রহমান খোকন, জেলা বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাকি এ কাউসার, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যাপক শারমিন সিদ্দীকি লিমা, হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান, সমাজকর্মী আব্দুর রহমান হাশেমী ও সাহাবুদ্দীনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে রেডিও সৈকতের অবদান, দুর্যোগে নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার কার্যক্রম এবং শ্রোতাক্লাবের সদস্যদের রেডিও সৈকতের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।
হিমেল রায় বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” এই ধরনের কার্যক্রম আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং সমাজে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে রেডিও সৈকত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনসিপি নেতা রায়ান কাশেম বলেন, “সাগরে জেলেদের জন্য জারি করা নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা, কক্সবাজারের তরুণদের উন্নয়ন এবং দুর্যোগ সচেতনতামূলক বিষয়গুলো রেডিও সৈকতের মাধ্যমে আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।”
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের বার্তা প্রচারের লক্ষ্যেই রেডিও সৈকত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উপকূলের নানা সমস্যার পাশাপাশি এখন মাদক ও পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।”
সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “কক্সবাজারের সমুদ্রের স্বকীয়তা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সমস্যাগুলো রেডিওতে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজারের উপআঞ্চলিক পরিচালক আবু সাইদ মো. নাজমুল হাসান বলেন, “রেডিও সৈকতের নাম এবং এর আকর্ষণীয় ৯৯.০ এফএম ফ্রিকোয়েন্সি শ্রোতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে। গত এক বছরে স্টেশনটি প্রায় ৩০০টি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও সম্প্রচার করেছে।”
আলোচনা পর্ব শেষে কেক কাটার মাধ্যমে রেডিও সৈকতের বর্ষপূর্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় শিল্পী শাহীন আবরার এবং স্থানীয় বেতার শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রেডিও সৈকতের বিগত চার বছরের বিভিন্ন সংবাদ পর্যালোচনা ও প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন স্টেশন ম্যানেজার উম্মে হানি জেরিন। পরিশেষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলমের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।







