সাতকানিয়ায় দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

সাতকানিয়ায় ঘুরতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে একজনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৩ মে বুধবার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের পূর্ব ছদাহা শহীদের নাল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ অভিযুক্তের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে থানা-পুলিশ।
সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী দুই কিশোরী কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমেদ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণি (১৬) ও অন্যজন অষ্টম শ্রেণির (১৫) ছাত্রী। বুধবার বিকেলে তারা স্থানীয় একটি এলাকায় ঘুরতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং একজনের ওপর পাশবিক লালসা চরিতার্থ করে বখাটেরা।
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন—ছদাহা ইউনিয়নের সিন্ধিপ্যা পাড়ার মো. ছৈয়দ ও বাজালিয়ার তৌহিদুল ইসলামসহ (বাকিদের নাম পাওয়া গেলে যুক্ত হবে)। এ সময় এক অভিভাবক বলেন, "আমার মেয়েটা স্কুলে গিয়েছিল; ফেরার পথে মানুষরূপী এই পশুরা ওর জীবনটা তছনছ করে দিল। আমরা সাধারণ মানুষ, এলাকায় সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই। যারা আমার মেয়ের এই অবস্থা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। বাকি যারা এখনো ধরা পড়েনি, পুলিশ যেন তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে।"
অন্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় বখাটেদের উৎপাত অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের মেয়েরা এখন বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছে। এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সামাজিক নিরাপত্তা বলে কিছু থাকবে না।
পূর্ব ছদাহা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, শহীদের নাল এলাকাটি তুলনামূলক নির্জন। সন্ধ্যার পর সেখানে বহিরাগত এবং স্থানীয় কিছু বখাটের আনাগোনা থাকে। বুধবার রাতে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এলাকাবাসী এই ঘৃণ্য অপরাধের সাথে জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দিচ্ছি। পলাতক বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।






