শিশুদের সুরক্ষা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব, পর্যবেক্ষণে আদালত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিশুদের সুরক্ষা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব, পর্যবেক্ষণে আদালত

শিশুদের সুরক্ষা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব, পর্যবেক্ষণে আদালত
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণাকালে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এ রায় ঘোষণা করেন।


রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ।


তিনি বলেন, যখন কোনও শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

বিচারক উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার প্রতিটির পেছনে রয়েছে শিশুদের অসহনীয় যন্ত্রণা, পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।


পর্যবেক্ষণে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তদন্তকারী সংস্থা অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। একইভাবে প্রসিকিউশনও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার।

আদালত আশা প্রকাশ করে বলেন, শিশু রামিসার মামলার মতো দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতাসংক্রান্ত অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হবে। ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার পরিচয় দেবেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষী এবং বিচার ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বিচারক বলেন, আদালতের দায়িত্ব আবেগ দিয়ে নয়, আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদ্ঘাটন করা। সেই বিবেচনায় আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন।




ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল
ছবি সংগৃহীত।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

রুলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর অধীনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নিশ্চিত করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট দায়ের করেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।

আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, একজন চেয়ারম্যানকে নানা ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা। সেখানে তিন লাখ টাকা মূল্যের মামলা পরিচালনা করতে পারেন। অথচ এই ক্ষমতা যে ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, তাকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করে বিজেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এখানে চেয়ারম্যানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ চেয়ারম্যানের যোগ্যতা সংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক চেয়েছি।




সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা কেটে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে (৫০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডসহ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টার পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ আরও দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ইরাকে নিয়ে যান বাবু শেখ। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির শ্বাসনালি কেটে খাদে ফেলে দেন তিনি। রক্তাক্ত ইরা অলৌকিকভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে দুই দিন লড়াই করে ৩ মার্চ ইরা মারা যায়। মৃত্যুর আগে সে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত ১৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মাত্র ৪ মাসের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এই রায় আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত ইরার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ। তারা একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।




হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
ছবি সংগৃহীত।

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এই আবেদন করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আবেদনে অপর আসামিরা হলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, ৯ মাসের শিশুকন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যা সংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন।

তাদের এসব কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবহেলা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।