শাটডাউন নিয়েও চালু হলো বিদ্যুৎ, চকরিয়ায় খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের দুইপা বিচ্ছিন্ন

কক্সবাজারের চকরিয়া থানা সেন্টার এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এক শ্রমিক। বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলার অভিযোগে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় শ্রমিকটির একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া থানা সেন্টার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি নিয়ে শাটডাউন নিশ্চিত করার পর বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ শুরু করেন শ্রমিক রুপম (২৩)। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কাজ চলাকালে হঠাৎ করেই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে উচ্চ ভোল্টেজের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক বৈদ্যুতিক শকে রুপমের দুই পা গোড়ালি পর্যন্ত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। একপর্যায়ে খুঁটির ওপরেই তিনি আটকা পড়ে থাকেন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই শ্রমিকদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছিল। শাটডাউন নেওয়ার পরও কীভাবে লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চকরিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জীবিকার তাগিদে জীবন বাজি রেখে কাজ করা বিদ্যুৎ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।







