লোহাগাড়ায় সেতু আছে, সড়ক নেই
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

লোহাগাড়ায় সেতু আছে, সড়ক নেই

লোহাগাড়ায় সেতু আছে, সড়ক নেই
ছবি: লোহাগাড়ায় বোয়ালিয়া খালের উপর নির্মিত সংযোগহীন সেতুটি তিন বছর ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

লোহাগাড়ায় বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে জনদুর্ভোগ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও আজও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে নির্মাণের পর থেকেই সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুটি এখন কেবল প্রদর্শনীর বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবে এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে উপজেলা এলজিইডির বাস্তবায়নে বোয়ালিয়া খালের ওপর ফুট ওভার ব্রীজ নাম দিয়ে কালভার্ট/সেতুটি নির্মাণ করা হয়। মৌসুমী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত তার ব্যক্তিগত জমিতে যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যেই এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

তবে চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর থেকে সেতুটি সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে খালের দুই পাশে কংক্রিটের পিলার ও সেতুর কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন অচল সেতু।

আমিরাবাদ জলদাশ পাড়ার বাসিন্দা হরি লাল জলদাশ বলেন, বোয়ালিয়া খালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল আমাদের জলদাশ পাড়ার মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বলে। সেতু দেখে আমরা ভেবেছিলাম দুর্ভোগ কমবে। পরে জানতে পারি চেয়ারম্যান তার নিজস্ব জমিতে যাতায়াত সহজ করতে তড়িঘড়ি করে সেতুটি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু রাস্তা না থাকায় তিন বছরেও কেউ এটি ব্যবহার করতে পারেনি। সরকারি টাকার এমন অপচয় দেখে খুব কষ্ট হয়। বর্ষাকালে খালের পানিপ্রবাহেও বাধা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতু সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, এলজিইডি আইডিভুক্ত ছাড়া সড়কের কোন কাজ করে না। যদি উপজেলা পরিষদ বরাদ্দ দেন কাজের বাস্তবায়ন করা হয়। সড়ক বিহীন সেতুটি পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে স্থানীয়দের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়োজিদ বিন আখন্দ বলেন, আমিরাবাদ জলদাশ পাড়ার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য যদি সেতুটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোয়ালিয়া খালের ওপর সংযোগ সড়কবিহীন সেতুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।