লোহাগাড়ায় প্রশ্নবিদ্ধ ইজারা, নদীতে বালু নেই, ফাইলে বালুমহাল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

লোহাগাড়ায় প্রশ্নবিদ্ধ ইজারা, নদীতে বালু নেই, ফাইলে বালুমহাল

লোহাগাড়ায় প্রশ্নবিদ্ধ ইজারা, নদীতে বালু নেই, ফাইলে বালুমহাল
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়া উপজেলা-এর পুটিবিলা, আধুনগর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ডলু নদীর আধুনগরের একটি অংশে বালু ও পানির কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকলেও ১৪৩৩ বাংলা ১লা বৈশাখ থেকে ‘ডলু বালুমহাল-৩’ নামে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর ডলু নদীর সেতু, তৎসংলগ্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা থাকা সত্ত্বেও ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার আধুনগর এলাকায় ডলু নদীর ওপর একটি দীর্ঘ সেতু রয়েছে। তবে নদীর ওই অংশ প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সামান্য পানি জমে থাকলেও নদীর তলদেশে বালুর কোনো অস্তিত্ব নেই। বরং নদীটি এখন অনেকটাই খালের রূপ নিয়েছে। দুই তীরে ঘন সবুজ গাছপালা ও বসতবাড়ি থাকলেও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নেই এবং বালু উত্তোলনের মতো কোনো উপাদানও নেই। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে খালপাড় ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নিচু এলাকার মানুষ দীর্ঘসময় পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

এদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ কিংবা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা সংলগ্ন এলাকা এবং আবাসিক এলাকার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আইন উপেক্ষা করেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ডলু ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে উজানে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোলতান আহমদ চৌধুরী বাদশা বলেন, সেতু, মসজিদ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন খালে ইজারা দেওয়া মানে আইন লঙ্ঘন। অতীতে এমন ইজারা হয়নি। এটি মূলত খালসদৃশ একটি জলধারা, যা পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্ষাকালে শুধু পাহাড়ি ঢলের পানি আসে, জোয়ারের কোনো প্রভাব নেই।
অথচ বাসিন্দারা জানান, ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে ডলু নদীতে বালু মাহাল ইজারা বন্ধ। এছাড়া বছরের অধিকাংশ সময়ই এ অংশে পানি থাকে না, বালুও জমে না। এমন পরিস্থিতিতে এখানে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে করছেন।

তাদের দাবি, অতীতে একই এলাকায় মসজিদ ও মাদ্রাসা থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার হঠাৎ করেই ইজারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কোনো বিশেষ মহলের প্ররোচনায় হচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইজারার জন্য চিহ্নিত স্থান নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের তহসিলদার ও উপজেলা ভূমি অফিসে পর্যন্ত সঠিকভাবে জায়গাটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি তারা সরেজমিনে না গিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় কার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম প্রথমে জানান, ওই স্থানে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে পরক্ষণেই তিনি বলেন, যেহেতু ইজারার সার্কুলেশন প্রকাশ হয়েছে, এখন ইজারার বাইরে তো কেউ কিছু করতে পারবে না।

প্রশাসনের এমন পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে বাস্তবতা বিবেচনায় ইজারা না দেওয়ার ইঙ্গিত, অন্যদিকে প্রক্রিয়া চলমান রাখার অবস্থান। এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। বাস্তবতা যাচাই ছাড়া এ ধরনের ইজারা প্রদান শুধু প্রশাসনিক অনিয়মই নয়, বরং পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তারা দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।