লোহাগাড়ায় জায়গা-জমির দ্বন্দ্বে মাদ্রাসা শিক্ষক খুন
লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাওলানা আবুল কাশেম (৬৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সামশুল আলম (৩৮) নামের এক যুবককে আটক করেছেন পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের বসতবাড়ির সামনের চলাচলের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
নিহত আবুল কাশেম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি চরম্বা জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আটক সামশুল আলম নিহতের আপন চাচাতো ভাই এবং ওই গ্রামের কবির আহমদের ছেলে। আহতরা হলেন- নিহতের বোন ছকিনা বেগম (৬৫), মৃত ফয়েজ আহমদের ছেলে শাহ আলম (৬৯) ও কবির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদ (৪০)।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবুল কাশেমের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই প্রবাসী নুরুল হক, হারুনুর রশিদ ও সামশুল ইসলাম গংয়ের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিরোধপূর্ণ জায়গায় নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
নিহতের মেয়ে উম্মে হাফছা অভিযোগ করে বলে, জোরপূর্বক জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে তার ফুফু ছকিনা বেগম বাধা দেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর পেয়ে তার বাবা মাদ্রাসা থেকে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে নির্মাণ শ্রমিক এয়াকুব হোসেন প্রকাশ এয়াকুব মিস্ত্রি গালিগালাজ ও উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে হারুন ও ওসমান লাঠি দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সৈয়দ হোসেন বলেন, জায়গা-জমির বিরোধের জেরে মাওলানা আবুল কাশেম নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু আদনান সাঈদী বলেন, আবুল কাশেম নামের এক বৃদ্ধকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে আরও তিনজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) কর্মরত এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সাথে জড়িত সামশুল আলম নামে এক যুবককে আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যস্থা প্রক্রিয়াধীণ ও ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।






