লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নিয়ে বিতর্ক, বিস্ফোরক মামলার আসামি সম্পাদক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হামলা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে পদাধিকারবলে ইউএনওকে সভাপতি এবং এস এম চিশতীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এস. এম চিশতী লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশহাট এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২(৪) ও ৮ অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক টিটন খীসার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩০ এপ্রিল ইউএনও মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে সভাপতি এবং কুতুব উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন আয়োজন না করেই গত ৭ জুলাই ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলার ৭৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এস এম চিশতী। ওই মামলাটি গত বছরের ২ অক্টোবর দায়ের হয়। পরে ১২ নভেম্বর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় এক মাস পর জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের এম. মাহমুদুল করিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব কুতুব উদ্দিন বলেন, ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন নিয়ে কোনো সভা হয়নি। কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের বিষয়েও আমি কিছু জানি না।
এস এম চিশতী বলেন, সব ধরনের শর্ত পূরণ করেই আমাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় আমাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, আমি জুম মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






