লামায় সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ!
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

লামায় সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ!

লামায় সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ!
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রোডপাড়াস্থ সাংবাদিক কাইছার হামিদ এর বাড়িতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।শনিবার(৬জুন) রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাবা জানায়, ভোর ৪ টার দিকে প্রায় ৮/১০ জনের একটি ডাকাত দল বাড়িতে হানা দেয়। তখন ৩ জন ডাকাত ছাদ বেয়ে উপরে উঠে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে আলমারি ভেঙ্গে নগদ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ও একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে যায়। তখন বাকী ডাকাতেরা ঘরের বাহিরের অবস্থান করে পার্শ্ববর্তী ঘরগুলোর গতিবিধি লক্ষ্য করছিল যাতে অন্যকোন মানুষ বের হতে না পারে।

সাংবাদিক কায়সার হামিদ জানায়, কর্মের সুবাদে তখন আমি সস্ত্রীক লোহাগাড়ার বাসায় অবস্থান করছিলাম। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা ছিলেন। তাদের কাছে গরু বিক্রি করা ক্যাশ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত আমি আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের আইসিকে ১৫ বার কল দিয়েছি। তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সেবা সংস্থা ৯৯৯ কল দিলে তারা লামা থানার মাধ্যমে আজিজনগর আইসি’র সাথে কথা বলিয়ে দেয়। আজিজনগর পুলিশ সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজিজনগর ক্যাম্প থেকে আমার বাড়ি ১ কিলোমিটার দূরত্বও হবেনা। এমন পুলিশি সেবায় আমরা হতবাক !  
সাংবাদিক কাইছার হামিদ লোহাগাড়া উপজেলার দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি ও লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে  অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন রানা তার ফেইসবুক পোস্টে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ঘটনা চলাকালীন আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি)কে অন্তত ১০ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, বরং বারবার কল কেটে দিয়েছেন. মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের এমন উদাসীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।

​মহাসড়কের পাশে সাংবাদিকের বাড়িতে এমন দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনায় লোহাগাড়া ও বান্দরবানের সাংবাদিক সমাজ এবং স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা অবিলম্বে এই ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি)আমিনুর রাহিম জানান,আমরাওতো মানুষ ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, পরে জানতে পেরে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করি।

লামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন,বিষয় শুনার সাথে সাথে তাদেরকে ঐ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।অসযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জকে ইতোমধ্যে বিষয়টা নিয়ে বকাঝকা করা হয়েছে।তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”