লামায় টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার, প্রস্তুত ৮ আশ্রয়কেন্দ্র
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

লামায় টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার, প্রস্তুত ৮ আশ্রয়কেন্দ্র

লামায় টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার, প্রস্তুত ৮ আশ্রয়কেন্দ্র
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা ও প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় দুই হাজার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড় ধস এবং ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

​ইতোমধ্যেই টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে লামা-বান্দরবান-সুয়ালক সড়কের টিটিএন্ড ডিসি এলাকা সহ একাধিক জায়গায় পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় লামা উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বিক তদারকির জন্য একটি কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) খুলেছে।

​ভৌগোলিক কারণে লামা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক বাসিন্দার ৯০ ভাগ মানুষই পাহাড়ের চূড়া, পাদদেশ ও কোল ঘেঁষে বসবাস করেন। বিগত বছরগুলোর পাহাড় ধসের ভয়াবহ ট্রাজেডির স্মৃতি মনে করে বর্ষা এলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এই পার্বত্য জনপদের বাসিন্দারা।পাহাড় ধসে উপজেলার আজিজনগর চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৪ তলা ভবন অত্যন্ত ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানা গেছে।

​বর্তমানে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়া, নারকাটাঝিরি, হাসপাতাল পাড়া,বড় নুনারবিল পাড়া, চাম্পাতলী, নয়াপাড়া, সাবেক বিলছড়ি, রাজবাড়ী, কলিঙ্গাবিল, কাটাপাহাড়, মধুঝিরি ও ছাগলখাইয়া এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে ফাইতং (বিশেষ করে রইম্যাখোলা অঞ্চল), আজিজনগর, সরই, গজালিয়া ও রূপসী পাড়ার পাহাড়ি ঢালে হাজারো পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
​আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারাদিন ধরে চলা গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি বৃষ্টিপাত পাহাড়ের মাটিকে নরম করে তোলে, যা পাহাড় ধসের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। তাই পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

​এদিকে, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ (পাহাড় ধস, বন্যা ও আকস্মিক জলাবদ্ধতা) মোকাবেলায় লামা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশাসনিক সভাকক্ষে এক জরুরি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বর্ষা মৌসুমে মানবিক বিপর্যয় রোধে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর জোর দেন বক্তারা।

​লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন,
​"পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে সতর্ক থাকতে হবে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করা ছিল। সেখানে অবস্থানরত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং এলাকায় এলাকায় মাইকিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।"পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৮টি স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশাসনের এই নির্দেশনা অমান্য করে যারা বৃষ্টির মধ্যে বিপজ্জনক পাহাড়ের নিচে অবস্থান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”