লামায় আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

লামায় আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

লামায় আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধীয় জায়গা ও পানির চলাচলের ঝিরিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাবেক বিলছড়ি এলাকার ইউনুস গং জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করলে আদালতের নির্দেশে লামা থানা-পুলিশ কয়েকবার নিষেধ করার পরেও তারা বাধা মানছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রতিপক্ষ বাধা দিলে উক্ত স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাবেক বিলছড়ি এলাকায় অসহায় নারী জাহেদা খাতুন (৭০)-এর সাথে মো. ইউনুস ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গংয়ের মাঝে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিষয়ে প্রতিকার পেতে বৃদ্ধা জাহেদা খাতুন লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে সিআর মামলা ১২১/২৬ এবং লামা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিপক্ষের অনাধিকার প্রবেশ বারিত করতে পিটিশন মামলা ৩৯/২০编制 রুজু করেন। আদালতের নির্দেশে লামা থানা-পুলিশ উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জায়গায় না যেতে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ জারি করে। কিন্তু পুলিশি বাধা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মো. ইউনুস ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গং উক্ত জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে। জাহেদা খাতুন ২৯৩ নম্বর ছাগলখাইয়া মৌজার আর/৮৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২ একর জমির মালিক।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ নোটিশ দেওয়ার সময় বিরোধীয় স্থানে কোনো স্থাপনা ছিল না। আর বর্তমানে সেখানে পানির চলাচল পথ বন্ধ করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। জাহেদা খাতুন বলেন, "তারা পুলিশ আসলে কাজ বন্ধ রাখে, আর চলে গেলে আবার কাজ শুরু করে।"

জাহেদা বেগমের ছেলে মো. আকরাম জানায়, "আমাদের প্রতিপক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন একজন আনসার সদস্য। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে ভাইদের নিয়ে গায়ের জোরে কাজ করছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের লোকবল বেশি হওয়ায় এলাকায় কাউকে মানে না। আমরা আইনের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।"

এ বিষয়ে মো. ইউনুস বলেন, "আমরা আমাদের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছি। এখানে জাহেদা খাতুনের কী?" আদালতের আদেশ মানছেন না কেন—এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

লামা থানা-পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ ইসমাইল হোছাইন বলেন, "বিরোধীয় জায়গায় উভয় পক্ষ ১৪৫-এর আবেদন করেছে। আদালতের নির্দেশে গত ১৬ মে ২০২৬ খ্রি. নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে জায়গায় না যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু মো. ইউনুস ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গং নিষেধাজ্ঞা মানছে না। আমরা জাহেদা খাতুনকে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করতে বলেছি।"




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”