লামার সরই ইউনিয়ন, ভেঙেছে ব্রিজ ও মাদ্রাসা, ঝুঁকিতে বিদ্যুতের খুঁটি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

লামার সরই ইউনিয়ন, ভেঙেছে ব্রিজ ও মাদ্রাসা, ঝুঁকিতে বিদ্যুতের খুঁটি

লামার সরই ইউনিয়ন, ভেঙেছে ব্রিজ ও মাদ্রাসা, ঝুঁকিতে বিদ্যুতের খুঁটি
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়ন একেবারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মৎস প্রজেক্ট ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

​সরেজমিনে দেখা গেছে সরই ইউনিয়নের কেয়াজুপাড়া ৪নং ওয়ার্ডের বাজার পাড়া হতে পুলাং পাড়া যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার পাশের একাংশ ধসে পড়েছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ার কারণে সড়কের পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে খুঁটিটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সচেতন সমাজের পক্ষে মো. সবুজ সরদার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগকে অতি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​এদিকে সরই ইউনিয়নের কিল্লাছড়া-বটতলী পাড়া হয়ে আন্ধারী যাতায়াতের একমাত্র সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের সাথে সম্পূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে ওই এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জনদুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছানোয় সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার বা বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​ঢলের পানিতে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত
​পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় 'মারকাযুল উলূম আল-ইসলামিয়া তাহফিযুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসা ও মসজিদ'। পানির তোড়ে মাদ্রাসার জায়গার মাটি ধসে গিয়ে শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে।

শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চিন্তিত শিক্ষকরা।

​শুধু রাস্তাঘাট বা সেতুই নয়, ঢলের পানিতে তলিয়ে ও ভেসে গেছে সরই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন প্রকার সবজি ক্ষেত। বন্যার পানিতে মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

​সব মিলিয়ে টানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরই ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষিখাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু দ্রুত মেরামত এবং বিদ্যুৎ ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেল বলেন, টানা অতিবৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, ফসলি জমি, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে টানা বৃষ্টি শুরুর আগেই গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। ফলে এখন পর্যন্ত সরই ইউনিয়নে পাহাড়ধস বা ভূমিধসজনিত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১০০টি পরিবারের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দের লক্ষ্যে তালিকা পাঠানো হয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”