লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ

লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে চরম দরিদ্রতা ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুই বোনের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি এবং বিক্রির পর জমির দলিল হস্তান্তর না করায় চরম জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অভিযুক্ত দুই বোন হলেন—লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আবদু ছালাম ও মৃত খুরশিদা খাতুনের মেয়ে মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭)। অন্যদিকে তাঁদের অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে একটি দালাল চক্র ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম, হামিদা আক্তার, মো. লালু, নুরুল কবির ও জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে জানা যায়, মদিনা বেগম ও জরিনা বেগমের বাবা মৃত আবদু ছালাম লামা উপজেলার ৩০৬ নম্বর ফাইতং মৌজার ফাদুরছড়া এলাকায় আর/৩৩০ নম্বর হোল্ডিং সূত্রে ৫ একর ৩য় শ্রেণির জমির মালিক ছিলেন। ২০১৭ সালে ‘মক্কা মদিনা ব্রিকস’ (এমএমবি) নামের একটি ইটভাটা স্থাপনের জন্য মূল মালিক আবদু ছালামের স্ত্রী খুরশিদা খাতুন ও দুই মেয়ে মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম ৫ বছরের জন্য উক্ত জমি ভাড়া দেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দুই বোন স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে উক্ত জমি রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন (১৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখের ২৮৮/২০১৯ নম্বর চুক্তিনামা দলিলসূত্রে ৪ একর ৯০ শতক)। এ নিয়ে পরবর্তীতে মামলা-মোকদ্দমা হলে দেওয়ানি আদালত রুহুল আমিনকে জমির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

ইটভাটার মালিক মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন জানান, উক্ত জমিতে ইতোমধ্যে 'এমএমবি' ইটভাটা গড়ে ওঠায়, ইটভাটার মালিক ওয়াহিদুল ইসলাম বায়নানামা দলিল (৩০৫/২০২১ ও ২৪২/২০২২ নম্বর) সূত্রে রুহুল আমিনের কাছ থেকে ৩ একর ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। ইটভাটার অপর অংশীদার ফরিদ উদ্দিন রুহুল আমিনের বাকি অংশ ক্রয় করেন। এছাড়া জমির মূল মালিক মৃত আবদু ছালামের দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানরাও এই সম্পত্তির অংশীদার হওয়ায় ভাটার অন্য অংশীদার গিয়াস উদ্দিন তাঁদের কাছ থেকেও তাঁদের প্রাপ্য অংশ কিনে নেন। পাশাপাশ পার্শ্ববর্তী আলী আহমদের ছেলে আলী হোসেনের কাছ থেকেও ইটভাটার জন্য ৫ একর জমি ভাড়া নেওয়া আছে। তাঁদের ভাষ্য, "রেকর্ডপত্রে যে পরিমাণ জমি রয়েছে, বর্তমানে আমাদের দখলে ততটুকু নেই। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা আমাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে না পেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।"

অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিনের কাছে ৪ একর ৯০ শতক জমি বিক্রির পরেও মদিনা ও জরিনা তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে স্থানীয় স্ট্যাম্পে (গ্রাম্য কাগজে) আরও ৯০ শতক জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছে ৩০ শতক, জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৩০ শতক, হামিদা বেগমের কাছে ১০ শতক, মো. লালুর কাছে ১০ শতক এবং নুরুল কবিরের কাছে ১০ শতক জমি বিক্রি করা হয়।

ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও তাঁদের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও দুই বোন বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, "দুই বোন এখন এলাকায় থাকেন না। জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে কিছু ভূমিদস্যু ও দালালের সহায়তায় ইটভাটা মালিক ও আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁরা মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছেন।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মদিনা বেগম বলেন, "এই জমি আমাদের। আমরা কারও কাছে জমি বিক্রি করিনি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা জমি উদ্ধার এবং জালিয়াতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইছার হামিদ জানান, "বিষয়টি মূলত জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ। আদালতই এই সমস্যার আইনি সমাধান দেবেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেজন্য ফাইতং পুলিশ ক্যাম্পকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।"




লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন ও নিত্যপণ্য প্রদান

লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন ও নিত্যপণ্য প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি জোন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক অসহায় পরিবারকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। ৮ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে উপজেলার ময়ূরখীল এলাকায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, ২২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টলারি লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমরান খলিল উপস্থিত থেকে ময়ূরখীল এলাকার মৃত ভিডিপি সদস্য মো. আব্দুল হান্নানের পরিবারের হাতে এ অনুদান তুলে দেন। প্রদান করা সহায়তার মধ্যে ছিল সেলাই মেশিন, থ্রি-পিস, শাড়ি, বোরকার ওড়না এবং মুড়ি, চিড়া, চিনি ও পানীয়জলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

সম্প্রতি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল হান্নানের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি জোন কমান্ডারের নজরে এলে সেনাবাহিনী ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানো ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।




আলীকদমে বাস দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত, আহত ১১

আলীকদমে বাস দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত, আহত ১১
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আলীকদম-চকরিয়া সড়কের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের তারাবুনিয়া এলাকার কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হোসাইন (৩৫) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোচপাড়া এলাকার সাহাবুদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে চকরিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি আলীকদম যাচ্ছিল। পথে তারাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে সামনের চাকা ফেটে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেলে সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই হোসাইনের মৃত্যু হয়।

আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিশাত বড়ুয়া জানান, চকরিয়া থেকে আলীকদম আসার পথে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




মাদকবিরোধী সচেতনতায় রামগড়ে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন, অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ

মাদকবিরোধী সচেতনতায় রামগড়ে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন, অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ
ছবি সংগৃহীত।

মাদককে 'না' বলা, তরুণসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনধারার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে খাগড়াছড়ির রামগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। ‘দৌড়ান সুস্থতার জন্য, এগিয়ে চলুন বিজয়ের পথে’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পাঁচ কিলোমিটারের এ ম্যারাথনে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক দৌড়বিদ অংশ নেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টায় রামগড় উপজেলার বলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে অংশগ্রহণকারীরা বলিপাড়া থেকে খাগড়াবিল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন।

প্রতিযোগিতায় মাত্র ১৩ মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন সেনাসদস্য মেহেদী। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন নোমান এবং তৃতীয় হন নাজমুল।

ম্যারাথনে প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে মেডেল, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেন ঢাকা থেকে আগত জাতীয় অ্যাথলেট ইমাজ উদ্দিন এবং রামগড়ের অ্যাথলেট জীবন ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মানিক সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, রামগড়ে এ ধরনের ম্যারাথন প্রতিযোগিতা এই প্রথম। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

আয়োজক আব্দুল হক মানিক জানান, গত ১৫ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিনামূল্যে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক দৌড়বিদ নিবন্ধন করে ম্যারাথনে অংশ নেন।

তিনি বলেন, “তরুণসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং একটি সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।”

ভবিষ্যতেও রামগড়ে এ ধরনের সামাজিক, ক্রীড়া ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।