লামার আজিজনগরে রাবার ব্যবসা ঘিরে চাঁদাবাজি-হামলা, প্রবাসী পরিবারের সদস্য গুরুতর আহত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

লামার আজিজনগরে রাবার ব্যবসা ঘিরে চাঁদাবাজি-হামলা, প্রবাসী পরিবারের সদস্য গুরুতর আহত

লামার আজিজনগরে রাবার ব্যবসা ঘিরে চাঁদাবাজি-হামলা, প্রবাসী পরিবারের সদস্য গুরুতর আহত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে এক প্রবাসী পরিবারের রাবার ব্যবসা কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, চুরি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বাবুলের ছেলে মো. ওমর ফারুক, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাবার বাগান ও রাবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের দুই সদস্য বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় দেশে থাকা মো. ওমর ফারুক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে চাপের মুখে পরিবারের বৃদ্ধ পিতা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি মাসের ১০ এপ্রিল তাদের রাবার গুদাম থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি রাবার চুরি হয়ে যায়। এর তিনদিন পর ১৩ এপ্রিল স্থানীয় বাজারে মো. ওমর ফারুকের কাছে আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী, টাকা দিলে ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

পরিবারের অভিযোগ, ১৫ এপ্রিল রাতে আজিজনগর বাজার এলাকায় এক বৈঠকের সময় হঠাৎ করে ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে অভিযুক্ত আনোয়ারুল হক মাসুমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল পুনরায় তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং মোবাইল ফোন ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে আজিজনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক মাসুমসহ কোরবান আলি, মো. লিটন, মানিক মিয়া, মো. মজনু মিয়া ও রফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ভয়ে অনেকেই এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিকার চাইতে গেলে উল্টো আরও হয়রানির শিকার হতে হয়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ব্যবসা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”