লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্মীছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ২ আগস্ট রোববার থেকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
পাহাড়ের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাড়াগুলো থেকে জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নারী-পুরুষ মিলে ২০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজ এলাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রাথমিক চিকিৎসার নানা কৌশল শেখানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তীব্র রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ ও জখমের প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি পরিচর্যা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবার ঘটনায় জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং নিরাপদ উপায়ে হাসপাতালে স্থানান্তরের কৌশলসমূহ।
লক্ষ্মীছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন মো. সাব্বির হোসেন (আরএমও) জানান, গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা বিষয়ক এ প্রশিক্ষণ ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
লক্ষ্মীছড়ি জোনের জোন কমান্ডার বলেন, "উপজেলার দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারলে দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।"











