রোয়াংছড়িতে অনুমতি ছাড়াই মাটি উত্তোলন, হান্নান নেতৃত্বে সক্রিয় চক্র
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

রোয়াংছড়িতে অনুমতি ছাড়াই মাটি উত্তোলন, হান্নান নেতৃত্বে সক্রিয় চক্র

রোয়াংছড়িতে অনুমতি ছাড়াই মাটি উত্তোলন, হান্নান নেতৃত্বে সক্রিয় চক্র
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে মো. হান্নান ও ইমাম আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ধানের জমি কেটে মাটি তোলা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাকে পরিবহন করার ফলে সড়কে কাদা জমে থাকছে, যা বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোয়াংছড়ি পাগলা ছড়া সড়কের পাশে দিবালোকে এক্সকাভেটর দিয়ে ধানের জমি কেটে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। উত্তোলিত মাটি দুইটি ট্রাকের মাধ্যমে রোয়াংছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এনে স্তুপ করা হচ্ছে, যা পরে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন ট্রাকচালক জানান, “কাজটি বৈধ কি না তা আমরা জানি না। প্রতি গাড়ির জন্য ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়।”

অভিযুক্ত মো. হান্নান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার যা পারেন করেন।”

এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “রোয়াংছড়িতে কোনো বালুমহাল বা ধানের জমি কাটার অনুমতি নেই। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি বলেন, “পাহাড় কাটার কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে অনুমতি ছাড়া মাটি কেটে বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করে পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করা যায়।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”