রোয়াংছড়িতে অনুমতি ছাড়াই মাটি উত্তোলন, হান্নান নেতৃত্বে সক্রিয় চক্র

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে মো. হান্নান ও ইমাম আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ধানের জমি কেটে মাটি তোলা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাকে পরিবহন করার ফলে সড়কে কাদা জমে থাকছে, যা বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোয়াংছড়ি পাগলা ছড়া সড়কের পাশে দিবালোকে এক্সকাভেটর দিয়ে ধানের জমি কেটে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। উত্তোলিত মাটি দুইটি ট্রাকের মাধ্যমে রোয়াংছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এনে স্তুপ করা হচ্ছে, যা পরে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন ট্রাকচালক জানান, “কাজটি বৈধ কি না তা আমরা জানি না। প্রতি গাড়ির জন্য ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়।”
অভিযুক্ত মো. হান্নান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার যা পারেন করেন।”
এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “রোয়াংছড়িতে কোনো বালুমহাল বা ধানের জমি কাটার অনুমতি নেই। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি বলেন, “পাহাড় কাটার কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে অনুমতি ছাড়া মাটি কেটে বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করে পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করা যায়।









