রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস, অর্থবছরে এলো রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস, অর্থবছরে এলো রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস, অর্থবছরে এলো রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
ছবি সংগৃহীত।

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। এই অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।

আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।




সোনার গহনার দাম আরও কমলো

সোনার গহনার দাম আরও কমলো
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ১৩ জুলাই ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার গহনার মতো রুপার গহনার দামও ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও

জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও
ছবি সংগৃহীত।

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) অনুমোদন বন্ধ থাকায় দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে পুঁজিবাজারের আকার আরও সংকুচিত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০Flag-২৬ অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) 'মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি' অনুপাত দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগজনক।

অর্থনীতির তুলনায় কেন পিছিয়ে পুঁজিবাজার?

একটি দেশের অর্থনীতির গভীরতা ও শক্তি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের বাজার মূলধনের অনুপাত। বিশ্বের উন্নত ও বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে এই অনুপাত সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তারও বেশি হয়ে থাকে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১২৫ থেকে ১৩৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশে এই হার মাত্র ১১ শতাংশের ঘরে স্থবির হয়ে আছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রতিবছর যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, পুঁজিবাজার সেই গতি ধরে রাখতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পায়নে সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব কমছে, অন্যদিকে অর্থনীতি ব্যাংক ঋণনির্ভর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাজার মূলধন বাড়লেও কাটেনি সংকট

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইতে সরকারি বন্ডসহ সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮,৬৯২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৬২,২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৩৬,৪২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সরকারি বন্ড বাদে অন্য সাধারণ সিকিউরিটিজের বাজার মূলধনও ৩৫,৮৭৭ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫,৪৮৩ কোটি টাকায়। তবে এই অংক কেবল কাগজের সূচক বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ছিল; নতুন কোনো ভালো মানের বহুজাতিক বা সরকারি ও বেসরকারি বড় কোম্পানি বাজারে না আসায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই অগ্রগতি ফিকে হয়ে গেছে।

আইপিওহীন দুই বছর ও সুশাসনের ঘাটতি

পুঁজিবাজার মূলত গড়ে ওঠে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। অথচ দেশে সক্রিয় লক্ষাধিক কোম্পানির মধ্যে চারশ কোম্পানিও এখন পর্যন্ত বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর বাজার সম্পূর্ণ আইপিওহীন হয়ে পড়ে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের আমলেও পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতের অর্থ সংগ্রহের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১৪৭টি কোম্পানি ১০,৭১৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি আর্থিক ও বিমা খাতের কোম্পানি আইপিও বাধ্যবাধকতার কারণে ১,৫৮৩ কোটি টাকা নিলেও উৎপাদনশীল শিল্প খাতে এই বাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন, "বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও নীতিমালাসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় নতুন কোম্পানি আনার বিষয়টি প্রত্যাশা অনুযায়ী গুরুত্ব পায়নি। নতুন আইপিও ছাড়া কার্যকর পুঁজিবাজার কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না।"

সূচক ও লেনদেনে কৃত্রিম স্বস্তি

আইপিওর খরা থাকলেও বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাজারের লেনদেন ও সূচকে গতি দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫,৭৬৩ পয়েন্টে এবং ভালো কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২,১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় লাফ দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৭২,৬৮৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ৭৯ শতাংশ বেড়ে ২৮,৭৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রবাসী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৯৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

'জেড' শ্রেণীর আধিপত্য ও বাজার দুর্বলতা

বাহ্যিক এই জোয়ারের আড়ালে বাজারের ভেতরের ভঙ্গুর রূপটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উথান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এটি মূলত কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৫টিই ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত, যার মধ্যে ৬২টি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, "বাজারে বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের তীব্র সংকট রয়েছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা খাতের সিংহভাগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ও টেকসই কোম্পানি আনতে হবে।"

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামও একই মত পোষণ করে বলেন, "বিদ্যমান পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানি বাজারে আনার জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সুদূরপ্রসারী ও বিশেষ ছাড়ের যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।"

সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবশ্য দাবি করছে যে তারা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “ভালো কোম্পানি বাজারে আকর্ষিত করতে আইপিও বিধিমালায় আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ ভ্যালুয়েশন স্ট্যান্ডার্ডস (ISVS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের যে নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে, তা ভালো মানের ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে পুঁজিবাজার দেশের জিডিপির সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৃত অর্থেই বড় হয়ে উঠবে।”




বাড়ল সোনা ও রুপার দাম

বাড়ল সোনা ও রুপার দাম
ছবি সংগৃহীত।

তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ মূল্য শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভা সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৮ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৬ হাজার ৭০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৩ হাজার ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪২০ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৩৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।