রুমায় পলিকা পাড়ায় বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই জলকেলি: সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মিলনমেলা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

রুমায় পলিকা পাড়ায় বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই জলকেলি: সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মিলনমেলা

রুমায় পলিকা পাড়ায় বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই জলকেলি: সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির মিলনমেলা
ছবি সংগৃহীত।

মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়ে উপলক্ষে বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পলিকা পাড়ায় উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য জলকেলি (মৈত্রী পানিবর্ষণ), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী কে এস মং।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বান্দরবান একটি অসাম্প্রদায়িক জেলা, যেখানে সকল জাতিসত্তার মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। আধুনিকতার ভিড়ে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভদন্ত ইন্দিরা মহাথের, বিহারাধ্যক্ষ, পলিকা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, রুমা, বান্দরবান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উঃ নাইন্দিয়া থেরো, নির্বাহী পরিচালক, অগ্রবংশ অনাথালয়, রুমা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উঃ চনুমং মারমা, সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদ, বান্দরবান জেলা; মানস বড়ুয়া, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), রুমা থানা; উঃ শৈমং মারমা (শৈবং), সাবেক চেয়ারম্যান, ২ নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ; উচো মং মারমা, সাধারণ সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা; মাহাবুব হাসান খান বাবুল, প্রকাশক, পাহাড় কণ্ঠ ডটকম; এবং প্রকৃতি বড়ুয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শৈচিংথুই মারমা, হেডম্যান, ৩৫৩ নং কোলাদী মৌজা ও সভাপতি, পলিকা পাড়া সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন কমিটি। সঞ্চালনায় ছিলেন মংমিন মারমা, সাধারণ সম্পাদক, একই কমিটি।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে উঃ চনুমং মারমা উৎসব আয়োজকদের সহযোগিতার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, “সাংগ্রাই শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। এ ধরনের আয়োজন সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদার করে এবং নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
উৎসবে নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত। মৈত্রী পানিবর্ষণের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি শুভকামনা বিনিময় ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারার অনন্য উপস্থাপন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”