রামুর জাংছড়িখালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

রামুর জাংছড়িখালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

রামুর জাংছড়িখালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের জাংছড়ি খালের বিভিন্ন স্থান থেকে নির্ধারিত এলাকা ও কোনো অনুমোদন ছাড়াই অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

একশ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ দিন ধরে এ কান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। 
অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জাংছড়ি খাল থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে তারা। যা স্খানীয়দের মধ্যে মোহাম্মদ হাশেমসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন এ প্রতিবেদকের কাছে।
স্থানীয় সূত্রনগুলো আরো জানান,, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাইস্কুল পাড়া থেকে ডাক্তার কাটাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে গভীর রাতে এবং ভোরবেলায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আশপাশের জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেক স্থানে কৃষিজমি ধসে গিয়ে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের আড়ালে এসব কার্যক্রম চললেও এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা অন্য স্থানে হয়। এসব এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। ফলে সেই সুযোগে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকে।
পরিবেশবিদদের মতে,এ-সব স্থনে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদীর তলদেশ গভীর হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি এসিল্যান্ডকে অবগত করার কথা জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বালু উত্তোলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”