রামুতে মহামারির আকার নিয়েছে অনলাইন জুয়া

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না সর্বনাশা অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের থাবা। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে এলাকার আনাচে-কানাছে ছড়িয়ে পড়েছে এই ডিজিটাল মাদক। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে দিন দিন এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামুর যুবক-তরুণদের পাশাপাশি রিকশা ও টমটম চালক, সাধারণ দোকানদার এবং মধ্যবয়সী থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও এখন মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকছেন জুয়ার আশায়। ফলে উপজেলার শত শত পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
যেভাবে ছড়াচ্ছে এই জাল
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ানএক্সবেট, মেলবেট, বাজি লাইভ সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই জুয়া খেলা চলছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের কিছু মোবাইল রিচার্জের দোকান এবং বিকাশ/নগদ এজেন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জুয়ার লেনদেন চক্র। 'লোকাল এজেন্ট' বা 'ডিপোজিট মাস্টার'দের মাধ্যমে জুয়াড়িরা টাকা পাচার করছে।
দিনমজুর থেকে ব্যবসায়ী, সবাই আক্রান্ত
আগে জুয়া খেলার জন্য নির্দিষ্ট আড্ডায় যেতে হতো, কিন্তু অনলাইন জুয়া এখন হাতের মুঠোয় চলে আসায় এর পরিধি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে:
গাড়ি চালক ও দিনমজুর: সারাদিনের উপার্জনের টাকা টমটম বা রিকশার সিটে বসেই জুয়ার অ্যাপে ঢেলে দিচ্ছেন অনেক চালক।
দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: ব্যবসার ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভে ডিজিটাল জুয়ায় ধরছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে দোকান বন্ধ করে গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলে মগ্ন থাকছেন।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ: স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর এবং বেকার যুবকদের একটি বিশাল অংশ মা-বাবার পকেট কেটে বা ধারদেনা করে এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে।
বাড়ছে পারিবারিক কলহ ও অপরাধ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামুর এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জানান, "অনলাইন জুয়ার কারণে ঘরে ঘরে অশান্তি। জুয়াড়িরা টাকা না পেয়ে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছে, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রাখছে। টাকা জোগাড় করতে অনেকে এখন চুরির মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।"
প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এনালগ জুয়ার চেয়ে অনলাইন জুয়া ধরা কঠিন, কারণ এটি গোপনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খেলা হয়। তবে যেসব স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে জুয়ার টাকা লেনদেন (ক্যাশ-ইন/ক্যাশ-আউট) হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
রামু উপজেলাকে এই নীরব ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচাতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ এবং কঠোর অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।







