রামুতে পুলিশের অভিযানে দেশীয় বন্দুক ও ইয়াবাসহ ডাকাত সেলিম গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের রামুতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় সচল আগ্নেয়াস্ত্রসহ মো. সেলিম (২৮) নামের এক কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রামু থানা-পুলিশ। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আগের আরও ৯টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
গত ১৭ মে (রবিবার) বিকেল ও রাতে পৃথক স্থানে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ... সুপার মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এসআই জয়নাল আবদীন সংগীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি চালান। বিকেল আনুমানিক ৭টায় রামু থানাধীন জোয়ারিয়ানালা ইউপির রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীতে আবুর দোকানের সামনে থেকে মাদক ব্যবসায়ী সেলিমকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২০০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় জনসাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, গ্রেপ্তারকৃত সেলিম ওই অঞ্চলের একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে আসছিল।
পরবর্তীতে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সেলিম নিজের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি মোতাবেক একই দিন রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাইট্টা পোল নামক ব্রিজের পশ্চিম পাশের পিলারের নিচে অভিযান চালানো হয়। সেখানে লতাপাতা দিয়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থা থেকে আসামি সেলিম নিজ হাতে একটি সচল দেশীয় একনলা বন্দুক (বাটসহ দৈর্ঘ্য ৪৮ ইঞ্চি, ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন সংযুক্ত) বের করে দেয় এবং পুলিশ সেটি জব্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. সেলিম (২৮) রামুর ৫ নম্বর ফতেখাঁরকুল ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরুংলোয়া এলাকার নুরুল হক ও রেহানা আক্তারের ছেলে। বর্তমানে সে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পাইনবাগান এলাকায় বসবাস করছিল।
পুলিশ জানায়, সেলিমের বিরুদ্ধে রামু ও কক্সবাজার সদর থানায় আগের ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। যার মধ্যে দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) অধীনে ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের একাধিক মামলা রয়েছে।
অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে রামু থানায় নতুন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।







