রামগড়ে ঈদের দিনেও ইউপিডিএফের হাতে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার মোটরসাইকেল চালক
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

রামগড়ে ঈদের দিনেও ইউপিডিএফের হাতে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার মোটরসাইকেল চালক

রামগড়ে ঈদের দিনেও ইউপিডিএফের হাতে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার মোটরসাইকেল চালক
ছবি সংগৃহীত।

ঈদের দিনেও ইউপিডিএফ (মূল) দলের হাত থেকে রক্ষা পাননি দুই মোটরসাইকেল চালক। তাদের হাতে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা মো. শাহজাহানের ছেলে নুরুল হক (২৩) ও নুর আলমের ছেলে নাজমুল ইসলাম (১৮)।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের পাকলাপাড়া নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার গুইমারা বাজারের মোটরসাইকেল চালক নুরুল হক জানান, সজল মারমা নামে এক ব্যক্তি পাকলাপাড়া এলাকার একটি লিচুবাগান থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে লিচু আনার জন্য তার মোটরসাইকেল ভাড়া করেন। তিনি তার ভাগনে নাজমুল ইসলামকে (১৮) সাথে নিয়ে পাকলাপাড়া লিচুবাগানে যান। লিচুবাগানে পৌঁছানোর পর বাগান থেকে ১০০টি লিচু দেওয়ার পর নুরুল হকের সন্দেহ হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহের বিষয়টি সজল মারমাকে ফোনে জানান। পরবর্তীতে তারা লিচু নিয়ে পুনরায় গুইমারার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পাকলাপাড়া এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র উপজাতীয় গ্রুপ গাছ ফেলে মোটরসাইকেলের পথ আটকায়। তারা অস্ত্রের মুখে ভীতি প্রদর্শন করে ভুক্তভোগীদের ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বাধ্য করে এবং ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে চোখ বেঁধে সারাদিন বিভিন্ন পাহাড়ে পাহাড়ে ঘোরানো হয় এবং রাত সাড়ে ৮টায় থলিবাড়ি ও তৈচাকমা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে তাদেরকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। সশস্ত্র গ্রুপটি নিজেদের ইউপিডিএফের মূল দল বলে দাবি করে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সিন্দুকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করে। উদ্ধারকৃত দুইজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বর্তমানে তারা দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”