যা আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফায়
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

যা আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফায়

যা আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফায়
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

১৪ দফার এই চুক্তিকে মূলত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বলা হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না।
এছাড়া দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয়।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার চার মাস পর এই চুক্তি হলো।

ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে কর্মসম্পাদন বা পারফর্ম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অর্থাৎ, ইরান নিজ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলেই কেবল চুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
যদিও চুক্তির মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরও সমাধান হয়নি, তবু এর যেসব মূল দিক সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হলো।

প্রথম দফা: 'সব ফ্রন্টে' সংঘাতের অবসান
চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ 'সব ফ্রন্টে' সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারে।

অন্যদিকে, তেহরান বারবার আশা জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বুধবার বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা হবে ,এই সমঝোতার লঙ্ঘন, আর এর প্রতিক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে।

নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই চুক্তি সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।

তবে এই দফার নিয়ে ইসরায়েল কী প্রতিক্রিয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দ্বিতীয় দফা: ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’পারস্পরিক সম্মান

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক টেলিফোন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে হুবহু পড়ে শোনানো চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে।

এই ধারা ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীগুলো নেতিবাচকভাবে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, সহায়তা আসছে।

তৃতীয় দফা: ৬০ দিনের সময়সীমা
চুক্তির তৃতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

দুই দেশের নেতারা সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পর থেকেই ৬০ দিনের এই সময় গণনা শুরু হয়েছে।

হোয়াইট হাউস বিবিসিকে জানিয়েছে, বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংক্রান্ত এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে ট্রাম্প এবং ইরানি কর্মকর্তারা এ সপ্তাহের শেষ দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এখন সেটি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

চতুর্থ দফা: যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে
চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং 'যেকোনো বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা' অপসারণ শুরু করবে। চুক্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে ইরানের বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে, তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ চলাচলের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র 'ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল' থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাস্তবে এর অর্থ হলো, ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন বাহিনীর যে অবস্থান ছিল, দেশটি আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।

পঞ্চম দফা: হরমুজ প্রণালি

চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান 'সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা' চালিয়ে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রণালিটি পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

নথিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে।

এর আগে এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে না।

দীর্ঘমেয়াদে, ইরান ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় আরও বিস্তৃত একটি কাঠামোগত চুক্তির জন্য কাজ করবে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান নিজেদের অধিকার দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।

তবে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু থাকার মতো সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় দেশগুলো কখনোই মেনে নেবে না।

ষষ্ঠ দফা: ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন
সমঝোতা স্মারকের ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই তহবিলের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেবে।

তবে তার মানে এটা না যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থায়ন করবে।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে কিংবা তহবিলে এক পয়সাও দিতে হবে না।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি ইরান ভালো আচরণ করে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ইরানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে।

ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে অর্থ দেবে না। তাদের দাবি, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সপ্তম দফা: নিষেধাজ্ঞার অবসান
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

তবে এই প্রক্রিয়ার সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এ বিষয়ে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি 'অবিলম্বে' অগ্রাধিকার দিয়ে পরবর্তী আলোচনায় বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

অষ্টম দফা: পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে একমত হয়েছে।

এই পদার্থ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় একটি প্রক্রিয়া পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হবে। তবে ন্যূনতম হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র তত্ত্বাবধানে 'ডাউনব্লেন্ড', অর্থাৎ ইউরেনিয়ামের মান বা তীব্রতা হ্রাস করার ব্যবস্থা করা হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, এই বছরের শুরুতে চালু করা 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যই ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা।

যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে পারফরম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাই সপ্তম দফায় উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের অষ্টম দফা মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে।

নবম ও দশম দফা: ‘স্থিতাবস্থা'
এই দুটি দফায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি 'স্থিতাবস্থা' বজায় রাখবে।

বাস্তবে এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। একই সময়ে তারা তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি এবং সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ- যেমন ব্যাংকিং লেনদেন ও পরিবহনের জন্য ওয়েভার বা ছাড়পত্র জারি করবে।

একাদশ দফা: জব্দকৃত অর্থ
এই দফাটি আলোচনায় একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে, যা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

নথির একাদশ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র 'জব্দ বা আটকানো সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে', আর এর প্রক্রিয়া পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিছু সম্পদ এমওইউ-পরবর্তী আলোচনার সময় মুক্ত করা হবে, যাতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা শুরুর মতো শর্তগুলো মানলে ইরানকে উৎসাহ দেওয়া যায়।

দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ দফা: নজরদারি ও চূড়ান্ত আলোচনা
চুক্তির শেষ কয়েকটি দফায় চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি 'ব্যবস্থা' গঠন করবে, যা এমওইউ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। তবে বাস্তবে এটি কীভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এমওইউ স্বাক্ষরের পর এবং বাস্তবায়ন শুরু হলে উভয় দেশ চূড়ান্ত একটি চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে।

সবশেষে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

সূত্র: বিবিসি




ভারতের জেন-জিও কি সরকার উৎখাতের পথে

ভারতের জেন-জিও কি সরকার উৎখাতের পথে
ছবি সংগৃহীত।

চার বছরে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের সরকারকে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করেছে তরুণ সমাজ জেন-জি। ২০২২ সালে কলম্বো, ২০২৪ সালে ঢাকা এবং ২০২৫ সালে কাঠমান্ডু; এই ধারাবাহিকতায় এবার উত্তপ্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি। একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি নামে পরিচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন গত এক সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে টেনে এনেছে। এ ধরনের বিক্ষোভকে কেবল ‘তরুণদের আন্দোলন’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। দক্ষিণ এশিয়ায় সরকার পতনের পেছনে মূলত চারটি প্রধান পরিস্থিতি কাজ করেছে। বর্তমান ভারতের বাস্তবতায় যার তিনটি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান-

১. শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিচ্ছিন্নতা

প্রথম শর্ত হলো উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের বিস্তার। ভারতে প্রতি বছর ৫০ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হলেও কাজের সুযোগ পান মাত্র ২৮ লাখ। ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকার ভারতীয়দের মধ্যে গ্র্যাজুয়েটদের হার ২০১৭ সালের ৪৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৬৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি গত মে মাসের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে, যা ২২.৭ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছিল। গত পাঁচ বছরে ভারতের ১৬টি রাজ্যে ৪৮টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় দেড় কোটি চাকরিপ্রার্থীর ওপর। ২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আইন পাস হলেও ২০২৬ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। একটি সাধারণ পরিবারের জন্য এই পরীক্ষাগুলোই পেশাগত জীবনে প্রবেশের একমাত্র মই, কিন্তু সেই প্রশ্নপত্র বারবার আগেই কারো কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

২. বৈষম্যের দৃশ্যমানতা

দ্বিতীয় শর্ত হলো বৈষম্য যা এখন খালি চোখে ও মোবাইলের স্ক্রিনে স্পষ্ট। একজন তরুণ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হওয়ার খবর পড়ছে, তখনই স্ক্রিনের পরের স্ক্রলে দেখতে পায় কোনও রাজনীতিকের ছেলের স্কি ট্রিপের ছবি কিংবা কোনও শিল্পপতির মেয়ের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঘোষণা। নেপালের বিক্ষোভকারীরা এদের ‘নেপো কিডস’ বা স্বজনপ্রীতির সন্তান বলে ডাকত, যা শুধু একটি বিদ্রূপ নয়; বরং বৈষম্যের পরিমাপ।

৩. প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাহীনতা

তৃতীয় শর্ত হলো প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া। যখন অভিযোগ কোনও কাজে আসে না, আদালতে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হয়, প্রতিনিধিরা ভোটারদের উপেক্ষা করে এবং নির্বাচন কিছুই পরিবর্তন করে না, তখন রাজপথই হয়ে দাঁড়ায় একমাত্র উপায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট পাঁচ দিনের মধ্যে ব্লক করা হয়েছে। দিল্লিতে তাদের অবস্থান ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং সোমবার সংসদে তাদের পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নির্দেশ অমান্য করে পদযাত্রা করা হলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয় এবং পুলিশের লাঠিচার্জে বহু অংশগ্রহণকারী আহত হন।

৪. ক্ষোভ ও অপমান:

চতুর্থ শর্ত হলো রাষ্ট্র তার ব্যর্থতার পর যখন মানুষকে অপমান করে। নেপাল ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পাঁচ দিনের মধ্যে সরকার হারায়। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরির কোটা নিয়ে আদালতের এক রায় এবং অপমানজনক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। ভারতের আন্দোলন শুরু হয়েছে একটি নির্দিষ্ট অপমানজনক শব্দ থেকে।

শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে নেতারা ছোট কোনও বিষয়ে ছাড় দিতে পারতেন, কিন্তু তারা রাজপথ খালি করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ফলে ছোট দাবিগুলো আর যথেষ্ট থাকেনি এবং শেষ পর্যন্ত তা পুরো সরকার পতনের দাবিতে পরিণত হয়েছিল। সোমবার দিল্লিতেও আন্দোলনটি আর কেবল শিক্ষামন্ত্রী প্রধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

সূত্র: স্ক্রল.ইন




সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অনুমোদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে, সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে এবং আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করবে, পরামর্শ সহায়তা দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরব প্রদান করবে কয়েক হাজার কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পরেই চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটে পাস হলে সেটি কার্যকর করা হবে। কংগ্রেসে চুক্তির খসড়ার সঙ্গে ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামের একটি নথিও পাঠানো হবে। সেই নথিটি বিদেশি রাষ্ট্রেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই চুক্তিটি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদির পরমাণু শক্তি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে বিনিয়োগের দুয়ার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।

ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তিতে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত নেই। সৌদি আরব যদি চায়— তাহলে এই চুক্তির মধ্যে থেকেই পরমাণু বিশুদ্ধকরণ এবং খরচ হওয়া পরমাণু জ্বালানির পুণঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

এছাড়া এ চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ নীতিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ হলো এমন একটি নীতি— যার আওতায় জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময়ে যে কোনো দেশের পরমাণু প্রকল্পের কর্মসূচি পরিদর্শন করতে পারবে। যে কোনো দেশের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প চুক্তিতে অতিরিক্ত বা অ্যাডিশনাল প্রটোকলের অন্তর্ভুক্তি প্রায় অপরিহার্য।

কিন্তু ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

অর্থাৎ কংগ্রেসে এই চুক্তির খসড়া পাশ হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধ করার পথে সৌদির কোনো বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরোপ করা না হলে এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে একাধিকবার বলেছেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে।

পরমাণু বোমা তৈরির দু’টি প্রধান ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুণঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী বেশিরভাগ দেশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

সূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে




বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, দিল্লি অভিমুখে শত শত কৃষক

বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, দিল্লি অভিমুখে শত শত কৃষক
ছবি সংগৃহীত।

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন ভারতের শত শত কৃষক। পাঞ্জাব থেকে যাত্রা করা এসব কৃষককে হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেড দেওয়ার এ ঘটনা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক এবং কয়েক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্তটিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল।
এনডিটিভি জানিয়েছে, যাতায়াতের সুযোগ না পেয়ে কৃষকেরা শম্ভু সীমান্তে সমাবেশ করেন। এ সময় তারা দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের জন্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারকেই অভিযুক্ত করেন।

বিকেইউ শহীদ ভগৎ সিংয়ের নেতা তেজভীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। পাঞ্জাব সরকার এই পদক্ষেপ প্রতিহত না করে ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের কনভয়গুলো থামিয়ে দেওয়া হলেও আম্বালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ হরিয়ানার কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত মহাসমাবেশে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানাতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের কৃষক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে।

কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটি (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, শম্ভু সীমান্তে থামার আগে কেএমএসসি, কিষাণ মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব অধ্যায়), আজাদ কিষাণ মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংগ্রামের বহরগুলো রাজধানী অভিমুখে রওনা দেয়।

পান্ধের বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি একটি প্রচলিত বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি। এটি কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব অধিকার এবং সেবা খাতের মতো বিষয়ে আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।

কৃষক নেতারা বলছেন, পূর্ববর্তী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের মতো খাতে কম শুল্ক এবং বিধিনিষেধ শিথিলের মাধ্যমে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধবাজারে আরও গভীর প্রবেশাধিকারের জন্য ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারা বলছেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ভারতীয় কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। তারা আলোচনাকে ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

সংগঠনগুলো বলেছে, ভারতের শুধু দুগ্ধ খাতই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার উৎস। এ খাতে যেকোনো বিরূপ প্রভাব সমগ্র গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। এতে দুগ্ধ উৎপাদনকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

দেশ বাঁচাও মোর্চা প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসংক্রান্ত সব নথি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে।