মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া দলিল লামায় ৫ একর পাহাড়ি ভূমি গ্রাসের চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলার ২৮৬নং ফাসিয়াখালী মৌজায় মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও দখলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস এর বিরুদ্ধে।
উপজেলার ফাসিয়াখালী মৌজার হোল্ডিং নং- R/৪৬ এর অন্তর্ভুক্ত ৫.০০ (পাঁচ) একর পৈতৃক ও বন্দোবস্তীয় ভূমি রক্ষার্থে এবং ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বান্দরবান জেলার বিজ্ঞ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আদালতে (মামলা নং - ৭/২০২৬) মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইসমাইল।
প্রাপ্ত আদালতের আরজি ও মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মামলার বাদী মো: ইসমাইল (পিতা- মৃত আব্দুল কাদের, সাং- লোহা রাস্তা, ৩১৪নং সুয়ালক মৌজা, বান্দরবান সদর) ১৯৮২-৮৩ সালের ৫২৬৬ নং বন্দোবস্ত মামলা মূলে এবং পরবর্তী খরিদা সূত্রে ৫ একর ২য় ও ৩য় শ্রেণীর পাহাড়ি ভূমির বৈধ মালিক হিসেবে সরকারি তৌজি ও জমাবন্দিভুক্ত হয়ে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। (যার উত্তরে আঃ রশিদ ও বিচ্ছিন্নার ছড়া, দক্ষিণে বুড়ার কার্ড, পূর্বে পাহাড় এবং পশ্চিমে কুমারী ছড়া অবস্থিত)।
অভিযোগে চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস (পিতা- আমির হোসেন, সাং- ফাসিয়াখালী, ভেন্ডি বাজার, থানা- চকরিয়া, জেলা- কক্সবাজার) ও তার সহযোগীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, চক্রটি উক্ত মৌজার R/৮২২ নং হোল্ডিংয়ের মালিক মৃত মনিরুজ্জামানের ৩.১০ একর ভূমি মনিরুজ্জামানের মৃত্যুর (২৮/১০/১৯৯৮ খ্রি.) পর ভুয়া ও মিথ্যা রেজিস্ট্রি দলিল সৃষ্টি করে অবৈধভাবে নামজারি করায়।চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ফাসিয়াখালী মৌজার R/২৩৮ নং হোল্ডিংয়ের ৩.৫০ একর এবং R/৮০২ নং হোল্ডিংয়ের ৩.৫২ একর ভূমির চৌহদ্দি ও জমাবন্দি পরিবর্তন করে। এই জালিয়াতির ধারাবাহিকতায় গত ২৪/০৪/২০২৩ইং তারিখে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ ইসমাইলের বৈধ ভোগদখলীয় R/৪৬ নং হোল্ডিংয়ের ৫ একর জমি জবরদখল করে এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ইসমাইল বলেন,পার্বত্য অঞ্চলের শান্তপ্রিয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভূমি এভাবে সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ও মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজ বানিয়ে গ্রাস করা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতি ও দখলের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তিনি।
বিবাদী মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান,ইসমাইল আমাকে অযথা হয়রানি করছে তার দাবিকৃত জায়গা অন্যত্র। তাহার অভিযোগের প্রত্যেক টা রিপোর্ট আমার পক্ষে দিয়েছে, আমি আমার জায়গায় শান্তিপূর্ণ বসবাস করছি।









