মসজিদের নাম ভাঙিয়ে জায়গা দখল ও অবৈধ বালু পয়েন্ট স্থাপনের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী ফুলতলা স্টেশন এলাকায় মসজিদের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালু পয়েন্ট স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত হোসেন ও বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন বাদশাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জোসনা মোস্তারী (৪৮) গত ২৯ মে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী মৌজার বিএস ৫৪৫ ও ৫৪৬ নম্বর দাগের ১০ শতক জমি তাঁর ভাই নুরুল আমিন ২০০২ সালে বৈধভাবে ক্রয় করেন। বর্তমানে নুরুল আমিন সৌদি আরবে অবস্থান করায় আমমোক্তারনামার মাধ্যমে জোসনা মোস্তারী জমিটির দেখাশোনা করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এর আগেও অভিযুক্তরা জমিটি দখলের চেষ্টা করলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে চকরিয়া থানা থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ জারি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ২৬ মে রাত ১০টার দিকে কফিল উদ্দিন বাদশা, শওকত হোসেনসহ অন্যরা শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল জমিটি জবরদখল করে সেখানে অবৈধ বালু পয়েন্ট স্থাপন করা।
জোসনা মোস্তারী আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জোসনা মোস্তারী বলেন, “আমার ভাইয়ের বৈধ মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও মসজিদের সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, “উক্ত জায়গাটি আমার পরিবার মসজিদকে দান করেছে। এটা মসজিদের জায়গা। মসজিদে বালু ফেলে ঈদের মাঠ করা হচ্ছে, এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।”
তবে কফিল উদ্দিন বাদশার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোছাইন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জমি দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।







