ভাঙা বেড়িবাঁধে কুতুবদিয়ার দীর্ঘশ্বাস: প্রতিটি জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কুতুবদিয়াবাসী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

ভাঙা বেড়িবাঁধে কুতুবদিয়ার দীর্ঘশ্বাস: প্রতিটি জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কুতুবদিয়াবাসী

ভাঙা বেড়িবাঁধে কুতুবদিয়ার দীর্ঘশ্বাস: প্রতিটি জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কুতুবদিয়াবাসী
ছবি সংগৃহীত।

জোয়ারের পানি ঢোকার সময় ঘরের দরজা বন্ধ করেও লাভ হয় না। সাগরের লোনা পানি ভাঙা বেড়িবাঁধ পেরিয়ে মুহূর্তেই ঢুকে পড়ে বসতঘরে। খাট, আলমারি, রান্নাঘর, উঠান সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে গেলেও থেকে যায় লবণের আস্তরণ, নষ্ট হয় ফসল, পুকুরের মাছ ও নলকূপের পানি। এমন বাস্তবতাই এখন কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের জীবন।

বিশেষ করে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, কাহারপাড়া ও রোমাইপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিটি জোয়ারের সময় আতঙ্কে থাকেন তারা। রাতের জোয়ারে ঘুম ভেঙে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘর রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুতুবদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া রক্ষা বাঁধ ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। যা মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও শিশুদের কোলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন মায়েরা, কোথাও বৃদ্ধরা কোমরপানি মাড়িয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার উঁচু মাচায় চুলা বসিয়ে রান্না করছে। আবার কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছেন।

পূর্ব তাবালেরচর এলাকার মৃত বদি আলমের স্ত্রী ছমুদা বেগম (৬৫) জানান, রবিবার জোয়ারের পানিতে তাঁর বসতঘর ভেঙে গেছে। এখন সে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত করার দাবী জানান।

তাবালেরচর এলাকার বাসিন্দা আবু তৈয়ব জানান, জোয়ারের পানিতে বসতঘর ভেঙে যাচ্ছে। আাগামী পূর্ণিমার জোয়ারের আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে তাবালেরচর বায়তুশ শরফ কবরস্থান সমুদ্রে বিলিন হয়ে যাবে বলে তিনি আশংকা করেন।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ইউপি  সাহাব উদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা কাউছার হোছাইন রিপন, বড়ঘোপ ইউনিয়নের রোমাই পাড়া এলাকার জিয়াবুল, শুক্কুর, আলী হোছাইন অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ভাঙা বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষা ও পূর্ণিমার জোয়ারে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তাদের মতে, সাময়িক মেরামত পরিস্থিতি সামাল দিলেও স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আকতার কামাল সিকদার বলেন, "ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েছি। দ্রুত সংস্কার না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।"

বাপাউবোর কুতুবদিয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: আতিকুল ইসলাম জানান,  কুতুবদিয়ায় ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন ভাবে ৫টি ঝুকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, শীগ্রই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন,কুতুবদিয়াবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কুতুবদিয়ায় ১০টি পয়েন্টে ঠিকাদারের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে ৫টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শুরুর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ভাঙা বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন কুতুবদিয়ার হাজারো মানুষ এমন প্রত্যাশা দ্বীপবাসীর।




১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও খালের ওপর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনসাধারণের কোনো কাজে না এসে এখন উল্টো জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই মই তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।

১৭ জুলাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুতে ওঠানামার জন্য বড় একটি মই স্থাপন করেন। মুহূর্তেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় পাঁচ বছর আগে ঈদগাঁও খালের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। কিন্তু উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি আজও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন আর যাত্রীদের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত হটস্পট—হিমছড়ি, খেত ও সাঁততরা ডালা অতিক্রম করতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে যাতায়াত করেন। বিকল্প এই সেতু চালু হলে লাখো মানুষ নিরাপদ পথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঁচ বছর ধরে কোটি টাকার সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই সেতু চালু করা এখন জনগণের প্রাণের দাবি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল জানান, পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বانের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকলেও মানুষের চলাচলের প্রয়োজন থেমে নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অস্থায়ী মই বেয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? কোনো প্রাণহানির পর কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চালু করা হোক। এতে শুধু পাঁচ বছরের দুর্ভোগের অবসানই হবে না, বরং ডাকাতি-অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ঈদগাঁও-ঈদগড়সহ পাহাড়ি জনপদের লাখো মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।




কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল

কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আতাহার ইকবাল (৭৪) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

২১ জুলাই মধ্যরাত ১টার দিকে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোক জনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও একজন মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে। 
বুধবার বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। 

আতাহার ইকবাল একাধারে সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, বেতার উপস্থাপক সর্বোপরি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু। 
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আতাহার ইকবাল কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরংগ, সাগর বানী দৈনিক বাকখালীর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুর্বকোন দৈনিক নয়াবাংলা ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ দৈনিক মানবজমিন দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভুমিকায়। 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘকাল তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জড়িত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের সাথে। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সেক্রেটারি এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যান। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর দীর্ঘদিনের সভাপতি। 

শোক প্রকাশ:
সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। 
শোক বার্তায় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান কক্সবাজারের গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারালো।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান নেতৃবৃন্দ। 

মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়ার আর্জি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমীন।




টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে ব্র্যাক ব্যাংক পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে টানা সাত দিন ধরে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাংশে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি ব্যাংক ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আকবার সওদাগর ও জসিম উদ্দিন সওদাগর বলেন, টানা সাত দিন ধরে পানি জমে থাকায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল আলিম, কাশেম ও তৌহিদের নেতৃত্বে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।