লামায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কৃষিখাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৯শ কৃষক
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

লামায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কৃষিখাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৯শ কৃষক

লামায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কৃষিখাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৯শ কৃষক
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত (৬ জুলাই)   হতে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৮৭২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​কৃষি অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, উপজেলার সমতল ও পাহাড়ি এলাকায় মোট ১৬ হাজার ৬৬৭ হেক্টরের বেশি ফসলি জমির মধ্যে ৯৫৫ হেক্টর জমি দুর্যোগের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৮৩২ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​সমতল এলাকার মোট ৪,৩৭৪ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৫৪৭ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়।সমতলের ৩২ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ২০ হেক্টর প্লাবিত হয়, যার মধ্যে ৫ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৮.৪০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩৯০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২,০৪৬ হেক্টর আউশ জমির মধ্যে ১৬৭ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। ২ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৪১.৭৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৯৮ জন।
​সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজির। ১,৩৩৬ হেক্টর জমির মধ্যে ২৩৪ হেক্টর আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৪৭ হেক্টর সবজি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৮.৫০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ১,২৩০ জন সবজি চাষি চরম লোকসানে পড়েছেন।

​এছাড়া সমতলের ১২১ হেক্টর ফলবাগান ও ৫ হেক্টর অন্যান্য ফসলি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

​পাহাড়ি ও জুম চাষের ক্ষেত্রে মোট ১২,২৯৩ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৪০৮ হেক্টর জমি দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় কোনো জমি সম্পূর্ণ বিনষ্ট না হলেও ১১.৭৫ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
​জুমের ৩০০ হেক্টর আক্রান্ত জমির মধ্যে ২.৫০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০ হেক্টর আদা ও ২৮ হেক্টর হলুদের জমি আক্রান্ত হয়ে যথাক্রমে ১.৮৫ হেক্টর ও ২.৪০ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।৫০ হেক্টর পাহাড়ি ফলবাগানের মধ্যে ৫ হেক্টর বাগান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে​।

​লামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোছা: শাকিলা আক্তার জানান, আকস্মিক বন্যায় কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”