বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ী এালাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৬ ইস্ট বেঙ্গল মানবিক সহায়তা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ী এালাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৬ ইস্ট বেঙ্গল মানবিক সহায়তা

বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ী এালাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৬ ইস্ট বেঙ্গল মানবিক সহায়তা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলার বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোনের অধীন বিভিন্ন পাহাড়ি পাড়ায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তার অংশ হিসেবে কংলাই পাড়ার উপাসনালয়ের জন্য ব্যাটারি, বুলুম পাড়ার উপাসনালয়ের জন্য সোলার প্যানেল (এর আগে ব্যাটারি প্রদান করা হয়েছিল) এবং কাইতন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সোলার প্যানেল, সোলার ব্যাটারি, সোলার ফ্যান ও সোলার লাইট দেওয়া হয়। 

‘দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স’-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে এসব সহায়তা প্রদান করেন বাকলাই পাড়া সেনা সাবজোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাফকাত মুবাররাত চৌধুরী। 

এ সময় সেনা সাবজোন কমান্ডার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নিয়মিত সেনা টহলও জোরদার করা হয়েছে। 

মানবিক সহায়তা পেয়ে কাইতন পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল ত্রিপুরা বলেন, বিদ্যালয়ে সোলার ফ্যানের ব্যবস্থা হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমেও আরামদায়ক পরিবেশে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে পারবে। এজন্য তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের সহায়তা তাদের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুলছে। তারা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের জন্য উৎসাহ ও সহায়তার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। 

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, দেশের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”