বান্দরবানে পিজিসিবির সাবস্টেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: দায় এড়াতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ

বান্দরবানের বালাঘাটায় বাস্তবায়নাধীন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর “পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প”-এর আওতাধীন ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অপরিষ্কার বালু ও পাথর দিয়ে ঢালাই, বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণকাজ চালানো এবং তথ্য গোপনের মতো নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিসিসিই-ইটার্ন-ফেপেক কনসোর্টিয়াম। প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীনের এক্সিম ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার ও পিজিসিবি। এমবিএল কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ মাস।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের টুকরো ও বালুর মধ্যে অতিরিক্ত ধুলাবালি, ময়লা এবং কাদামাটির মিশ্রণ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রীর প্রায় ২০ শতাংশের বেশি অংশে ধুলাবালি ও মাটি মিশ্রিত রয়েছে। অথচ ঢালাইয়ের আগে সেগুলো পরিষ্কার না করেই সরাসরি মিক্সচার মেশিনে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নির্মাণসাইটে বালু ও পাথর সংরক্ষণের সঠিক কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনার মধ্যেই নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়নি কোনো চালনি বা পরিশোধন পদ্ধতিও। এতে প্রকল্পের নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলে উপঠিকাদার সুমিত চৌধুরী প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলেন, “বান্দরবানে তো ঘরে ঘরে সাংবাদিক।” পরে প্রকল্পের অনিয়ম ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
পরে পিজিসিবির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল কবিরের কাছে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের তথ্য দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ সময় তথ্য দিতে সক্ষম এমন দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর চাওয়া হলেও তিনি অসহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “ফোন নম্বর দিতে নিষেধ করা হয়েছে।” তবে পরক্ষণেই আবার বলেন, “আসলে আমি নিজেই ফোন নম্বর দিতে চাইছি না।”
একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর নিম্নমান ও চালনি ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি বড় প্রকল্প। এখানে চালনি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।”
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়িত্বরত প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তবে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে পরদিন আবারও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই কলাম ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁкихুঁকির কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি সাইট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সবকিছু ঠিক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন।”









