বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, জনমনে ক্ষোভ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, জনমনে ক্ষোভ

বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, জনমনে ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার দায়ে এক ব্যক্তিকে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পরিবেশ ধ্বংসের মতো গুরুতর অপরাধে এই নগণ্য জরিমানার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ব্রিগেড এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা ছাত্রাবাসের পেছনে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে যৌথ অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরটি সরিয়ে নেয়। পরে জায়গার মালিক কমলময় তঞ্চঙ্গ্যাকে (৪০) আটক করা হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত–২০১০) অনুযায়ী পাহাড় কাটার অপরাধে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়।

অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর উদ্দিন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মো. আরমান ভূঁইয়া।

এদিকে, নামমাত্র জরিমানার খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, এই দণ্ডের ফলে পাহাড় খেকোরা আরও উৎসাহিত হবে। অভিযোগ রয়েছে, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা ছাড়াও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গিপাড়া, নিউ গুলশান ও বনরূপা এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় সড়ক নির্মাণ ও বসতি স্থাপনের নামে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিবেশ আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

জরিমানার অঙ্ক নিয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে। জরিমানার পরিমাণ কেন কম হয়েছে, সে বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভালো বলতে পারবেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মো. আরমান ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
 




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”