বান্দরবানে জাল স্বাক্ষর ও নথি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে অভিযোগের উটিংওয়ং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে জাল স্বাক্ষর ও নথি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে অভিযোগের উটিংওয়ং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত

বান্দরবানে জাল স্বাক্ষর ও নথি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে অভিযোগের উটিংওয়ং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে সরকারি চেক জালিয়াতি করে ৮০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কটন ইউনিট অফিসার উটিংওয়াং মার্মাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।


বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিশোধকৃত তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতনের চেক জালিয়াতি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। এদিকে চেক জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অপরাধ স্বীকার করে একটি জমাবন্দি প্রদান করেন কটন ইউনিট অফিসার উটিংওয়াং মার্মা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলনের সময় অবশ্যই মুঠোফোনে এসএমএস'র মাধ্যমে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা বিষয়টি ব্যাপারে জানার কথা। বিভিন্ন তথ্য সুত্র অনুসারে জানা যায় প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা যোগসাজশে চেক জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ জড়িত ও তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সজীব সরকার ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে  অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। মাসিক বেতন না পেয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেতন না পেয়ে কেউ কেউ ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।


তুলা উন্নয়ন বোর্ড অফিসের সূত্রে জানা গেছে, উটিংওয়াং মারমা জোনাল কার্যালয়ে কটন ইউনিট অফিসার হলেও সম্প্রসারণ শাখায় কর্মরত। জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হিসাব শাখায় ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মাঠে সম্প্রসারণ পাশপাশি হিসাব শাখায় প্রায় ৭ বছর দায়িত্বে ছিলেন। তখন বিভিন্ন বিলের টাকা ও ট্রেজারী খরচের কথা বলে বান্দরবান জেলা পরিষদকে ব্যবহার করে চলতো অনিয়ম আদায় করতো পিসি। প্রধান তুলা কর্মকর্তার কাছে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়লে সাময়িকভাবে হিসাব শাখা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক এএইচ কায়কোবাদ সুপারিশে আবার ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত হিসাব শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। হিসাব শাখায় ফের দায়িত্ব পাওয়ার পর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের জোনাল কার্যালয়ের বিভিন্ন বিল ও কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্ত জেলা পরিষদের ট্রেজারী চেক জালিয়াতি করে সরকারী টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম ধরা পড়ে। জেলা পরিষদের ট্রেজারী চেক জালিয়াতি করে পর পর ৪টি চেকের মাধ্যমে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। পরে পঞ্চম চেকটি গত ০৩ মার্চ কর্মচারীদের বেতন বিলের বিপরীতে ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা পরিবর্তে ৫১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা চেক জালিয়াতি করতে গিয়ে জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার কাছে ধরা পড়েন। তারপর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ উটিংওয়াং মারমা জমাবন্দি প্রেক্ষিতে তার বাড়ি থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। যা জেলা পরিষদ সাময়িক বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ রয়েছে।


গোপন সূত্রে আরও জানা যায়, ১০ তম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তার হয়েও বিগত ৭ বছরে হয়েছেন বিপুল সম্পদের মালিক। ৪২ লক্ষ টাকায় কিনেছেন শহরের উজানি পাড়া এলাকায় ২.৫ শতক জমি ও পুরবী বার্মিজ মার্কেটে তার নামে লক্ষ টাকার দোকানের ৯নং প্লট এবং বিশাল কাপড়ের দোকান। বিভিন্ন সময়ে দোকানের প্লটটি তার ভাইসুর কাস্টম যুগ্ন কমিশনারের বলে এসেছেন।  


বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। এই ঘটনার পর সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে  কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয় দপ্তরে  চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে উটিংওয়াং মার্মার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকটি প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।


বান্দরবান জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন মৃধা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে  চেক জালিয়াতি  প্রমাণিত হয়েছে  তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।


এদিকে বিভিন্ন সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন, চেক জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের পর সরকারী চাকুরী বিধিমালা অনুসারে তাহার চাকুরী থাকার কথা নয়,শুধু মাত্র কারণ দর্শানো নোটিশ ও বিভাগীয় মামলা রজু করে কর্তৃপক্ষ দায়সারা করতে চাচ্ছে। এটি সরকারি টাকা আত্মসাৎ ও আচরণ বিধিমালা অনুসারে ফৌজধারী অপরাধের সামিল।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”