বান্দরবানে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

বান্দরবানে এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে বান্দরবান (৩০০ নম্বর) সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁর পক্ষে প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।

এর ফলে এই আসনে ১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহ সুজা উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই আবেদনপত্র হস্তান্তর করেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় দলটির শক্তিশালী অবস্থান ও জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও জোটগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁরা এই আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় প্রার্থীর এই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এস এম শাহ সুজা উদ্দিন জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নেতৃত্বেই আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাব। আগামীর সুন্দর বান্দরবান গড়তে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যেই জেলার কয়েকটি উপজেলায় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে এনসিপি বান্দরবানে মজবুত অবস্থানে রয়েছে এবং বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”