বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৫০টি দোকান ও বসতঘর
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৫০টি দোকান ও বসতঘর

বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৫০টি দোকান ও বসতঘর
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের বাঘমারা বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫০টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ বাজারে আগুন দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে বিষয়টি জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাজারের দোকান ও বসতঘরসহ ৫০টি স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘমারা বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট ও স্থাপনা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি। ফলে আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকান ও বসতঘরের ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন। তাদের অভিযোগ—ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাবলু মহুরী, মিদু রাখাইনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গভীর রাতে আগুন লেগেছে। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা তারা কেউ জানেন না। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। সবকিছু হারিয়ে তারা এখন চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।

এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছিল বাঘমারা বাজারটি। এ নিয়ে চারবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলো।

এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, "খবর পেয়ে আমাদের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় যাতায়াতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ পরে জানা যাবে।"




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”