বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে সম্প্রীতির ভলিবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে সম্প্রীতির ভলিবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে সম্প্রীতির ভলিবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে “সম্প্রীতির ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় বান্দরবান সেনা জোন মাঠে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বান্দরবান সেনা জোন দল এবং বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ দল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোন উপ-অধিনায়ক মেজর নাফিউ সিদ্দিকী রোমান, পিএসসি এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. রেজাউল করিম। এছাড়াও সেনা জোনের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুল সংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতাটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দুই দলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য, দলগত সমন্বয় ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের আবহ, যা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ বলেন, “খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যম নয়, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তিনি প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন এবং খেলোয়াড়দের চমৎকার নৈপুণ্যের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্প্রীতিমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করতে তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ উদ্যোগ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা এ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”