বাঁশখালীর বিতর্কিত ইউএনও জামশেদুল আলমকে প্রত্যাহার

বাঁশখালীর বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জামশেদুল আলমকে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণ-কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হতে প্রত্যাহারপূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাদের নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ন্যাস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা স্বাক্ষরিত এক আদেশে মোহাম্মদ জামশেদুল আলমকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ২৯ নভেম্বর তিনি বাঁশখালীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
২০২৫ সালের ২৮ জুলাই চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীর একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে রাতারাতি অস্থায়ী সড়ক নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক মূল সড়কের পাশেই অবস্থিত। তবে বৃষ্টির কারণে মাঠে কাদা জমে থাকায় জেলা প্রশাসকের গাড়ি যাতে সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলের কাছে যেতে পারে, সেজন্য এই অস্থায়ী সড়কটি নির্মাণ করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই ৩৩ জন শ্রমিক কাজ করে সড়কটি তৈরি করেন। এতে প্রায় ১৩ হাজার ইট ও ২০ ট্রাক বালি ব্যবহার করা হয়েছে। শ্রমিকের মজুরিসহ এর আনুমানিক ব্যয় তিন লাখ টাকার বেশি।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন বাঁশখালীর ইউএনও জামশেদুল আলম।
এছাড়াও জামশেদুল আলম বাঁশখালী পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
সর্বশেষ, ইউএনও এবং পুলিশের উপস্থিতিতে হাইকোর্টের আদেশে পদ ফিরে পাওয়া বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুস মুন্সীর কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশখালী পৌরসভার আশকরিয়া সড়কের ১২টি প্রাচীন বৃক্ষ টেন্ডার ছাড়া কেটে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে পৌর প্রশাসক জামশেদুল আলমের বিরুদ্ধে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও টপসয়েল কেটে বিক্রি করা হলেও অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি ইউএনও জামশেদুল আলম। অপর দিকেে অজ্ঞাত কারনে অনুমোদন হীন ইট ভাটা ও পাহাড়ি কাট পোড়ালে ও কোন অভিযান নেই।
অভিযোগ আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালীর দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকা স্বত্ত্বেও ইউএনও জামশেদুল আলম উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দুর্গম এলাকার রাস্তা সংস্কার না করেই বরাদ্দ আত্মসাৎ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার বাঁশখালীর বিতর্কিত ইউএনও জামশেদুল আলমের বদলির খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের।






