বাঁশখালীর কাহারঘোনায় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাঁশখালী উপজেলার কাহারঘোনায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ইয়াবা ও মদ জুয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর প্রতিবাদী কর্মসুচীর অংশ হিসেবে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের পূর্ব কাহারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব কাহারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, কাহারঘোনা সংস্কার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা আফ্রিকা প্রবাসী সমাজকর্মী মুহাম্মদ ওমর কাজী।
সাংবাদিক মুহাম্মদ আলীর পরিচালনায় উক্ত সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংস্কার পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, সমাজসেবক ও রাজনীতিবীদ সিরাজুল ইসলাম,সংস্কার পরিষদের সহ সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম, পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি নুরুল ইসলাম, সংস্কার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, এনামুল হক, মাওলানা সেলিম উদ্দিন, মুহাম্মদ ইসলাম প্রমুখ।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কাহারঘোনা পরিষদের সেক্রেটারি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাহারঘোনা এলাকার বলিপাড়া, আনন্দপাড়া ও সাতঘর পাড়ায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের অবাধ কার্যক্রমের ফলে এলাকার তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক কারবারিদের বিলাসী জীবনযাপন দেখে অনেক তরুণ বিপথে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে সতর্ক করা হলেও তারা পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জামিনে মুক্ত কিছু আসামিও আবার সক্রিয়ভাবে মাদক কারবারে জড়িত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে প্রকাশ্যেই ইয়াবা বেচাকেনা চলছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীরা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে এলাকায় আসছে, যার ফলে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা, এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার বা স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, সার্বিক সামাজিক অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
বক্তারা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকাকে মাদকমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।






