বাঁশখালীতে বিধবা পরিবারের ওপর আবারও হামলা, দুই সন্তানকে হত্যার চেষ্টা!

বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা এলাকায় আয়েশা খাতুন নামে এক বিধবা ও তাঁর পরিবারের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ২টার দিকে সংঘটিত এই হামলায় তাঁদের ঘেরাবেড়া ভাঙচুর এবং আসবাবপত্র লুটের পাশাপাশি ওই বিধবার দুই আলেম সন্তান মাওলানা হাফেজ ইসহাক ও মাওলানা মোহাম্মদ সেলিমকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় তাঁরা পার্শ্ববর্তী জাকের হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় জাকের হোসেনের দুই শিশু সন্তান মোহাম্মদ সোহেল (১১) ও মোহাম্মদ জুনাইদ (৯) আহত হয়েছে।
পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা এলাকার কবির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে শনিবার রাত ২টার দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলা চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ৯৯৯-এ ফোন দিলে গভীর রাতে বাঁশখালী থানার এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের উদ্ধার করে।
গত বছরের এপ্রিল মাসেও এই বিধবার ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল প্রতিপক্ষরা। মূলত জায়গাজমি আত্মসাৎ ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতেই বারবার এই হামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা এলাকার শফিকুর রহমান ২২-২৩ বছর আগে মারা যান। সেই থেকে প্রতিবেশী কবির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদ তাঁদের সম্পত্তি গ্রাস করতে এবং বিধবা আয়েশা খাতুন ও তাঁর সন্তানদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে হুমকি-ধমকি ও হামলা-মামলা চালিয়ে আসছিলেন।
শনিবার বিরোধপূর্ণ জায়গায় সালিসকারীদের উপস্থিতিতে পিলার ও টিনের ঘেরা দেওয়ার পর গভীর রাতে লোকজন নিয়ে হারুনুর রশিদ সেখানে হামলা চালায়। তারা ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি বিধবা আয়েশা খাতুনের বসতবাড়িতেও হামলা চালায়।
স্থানীয় আজিজ আহমদ, কাসেম ফকির ও আহমদ কবির জানান, গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে বিধবা আয়েশা খাতুনের ছেলে মাওলানা হাফেজ ইসহাক ও মাওলানা সেলিম প্রতিবেশী জাকের হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। তাঁরা বলেন, "আমরা বিধবা পরিবারটিকে উদ্ধার করতে গেলে আমাদেরও হুমকি, গালাগালি এমনকি হামলা করা হয়।"
বিধবা আয়েশা খাতুনের জামাতা আবু বকর জানান, তাঁর শাশুড়ি ও পরিবারকে হয়রানি করে জায়গা আত্মসাৎ করতেই এই হামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিচারক আবদুল জলিল মানিকের মাধ্যমে খুঁটি ও ঘেরা দেওয়া হলেও রাতে সন্ত্রাসী এনে সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বড় ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, "আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আমাদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে। আমার দুই ভাইকে হত্যা করে জায়গা জবরদখল করাই তাদের লক্ষ্য।" তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ আক্রান্তদের উদ্ধার করেছে। এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলেছে।






