বাঁশখালীতে কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা, মসজিদ কমিটির দুর্নীতি নিয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সামাজিক কবরস্থানে এক গৃহবধূর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ ও মসজিদ কমিটির দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর পরই শেখেরখীল ইউনিয়নের আলী বলি পাড়া জামে মসজিদ মাঠেই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন মুসল্লীসহ এলাকার জনসাধারণ।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার জনৈক খলিলুর রহমানের পুত্রবধূ এক সন্তানের জননী জান্নাত আরা মারা গেলে তার লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে বাধা দেয় সাবেক মেম্বার ও মসজিদ কমিটির নেতা গিয়াসউদ্দিন। এতে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুপুর ২টার দিকে জান্নাত আরার লাশ দূরের অপর একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। দূরবর্তী ওই কবরস্থানে ধানক্ষেত মাড়িয়ে লাশ নিয়ে যেতে এলাকাবাসী ও স্বজনদেরকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার গিয়াস উদ্দিন জানান, জান্নাত আরার স্বামী আনিস আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে শহরে বসবাস করায় এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক না থাকায় পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি । তিনি আরো বলেন, যে মহিলা মারা গেছে, সে শহরে থাকতো, তাই তিনি সামাজিক কবরস্থানে মাটি পাওয়ার অধিকার রাখেন না। এছাড়াও ওই মহিলা সমাজের জন্য কোন অবদান রাখেননি বলেও তিনি জানান।
সমাজের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া স্বত্বেও কেন ওই মহিলাকে দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবরস্থানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তাকে দাফন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে লাশ দাফনে বাধা ও মসজিদ কমিটির নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় মুসল্লীরা শেখেরখীল আলী বলীপাড়া জামে মসজিদ, কবরস্থান ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়াকফ করা জমি ও অনুদানের টাকা দীর্ঘদিন ধরে ওই গিয়াস উদ্দিন ওরফে গিয়াস মেম্বারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে প্রশাসনের মাধ্যমে জনসমক্ষে হিসাব প্রকাশ করার জন্য ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মসজিদের নামে সাড়ে ৭ কানি জমি থাকা স্বত্ত্বেও মসজিদটিকে জরাজীর্ণ করে রাখা হয়েছে, কোন সংস্কার বা উন্নয়ন করা হয়নি মসজিদের । এছাড়াও আয়-ব্যয়ের হিসাব গ্রামবাসীকে না জানিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও করেন এলাকাবাসী।
বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফ খোকন বলেন, মসজিদের নামে চাঁদা আদায় থেকে শুরু করে সবকিছুতে সমান অংশগ্রহণ থাকলেও সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ মারা গেলে কবর দিতে বাধা দেন ওই গিয়াস উদ্দিন মেম্বার। উচ্চবিত্ত পরিবারের কেউ মারা গেলে তিনি কবরস্থ করতে বাধা দেন না। এই বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও প্রভাবশালী হওয়ায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না। মসজিদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকা স্বত্ত্বেও মসজিদকে জরাজীর্ণ রেখে, মসজিদের কল্যাণে খরচ না করে নিজের কব্জায় রেখে স্বার্থ হাসিল করারও অভিযোগ করেন তিনি । তবে তৃতীয় পক্ষের জনৈক ছাদেক হোছাইন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতায় মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা এনে এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচলনা করার দাবী জানান তিনি ।
ছবির ক্যাপশন: বাঁশখালীতে লাশ দাফনে বাধার প্রতিবাদ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ( বামে) ও (ডানে) বাধা প্রদানকারী মসজিদ কমিটির পক্ষে বক্তব্য প্রদানের দৃশ্য






