বাঁশখালীতে অর্ধশতাধিক নাগরিকের এনসিপিতে যোগদান

নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন অর্ধশতাধিক সম্মানিত নাগরিক ও তরুণ নেতা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি যোগদান অনুষ্ঠান উপজেলা সদরের আলাওল ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের বাঁশখালী উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাকিবের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদ মিনহাজের সঞ্চালনায় উক্ত বর্ণাঢ্য যোগদান ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য জাওয়াদুল করিম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মাশফিকুর রহিম চৌধুরী মিশকাত।
সভায় দেশের প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে একটি নতুন ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়ে এনসিপিতে যোগ দেন বাঁশখালী আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাকিবুল ইসলাম, সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাঁশখালী উপজেলা শাখার সভাপতি আব্বাস খান, বাঁশখালী ছাত্র সংস্থার সাবেক সভাপতি তাওহিদুল ইসলাম, প্রবাসী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, মাস্টার রিফাত হোসেন, সাইয়্যেদ মোঃ আবু জাবের, ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির হোসাইন, মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ দেলোয়ার, মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ, মোঃ আলী, মোহাম্মদ রোহান উদ্দিন, প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহ, হিজবুর রহমান, মোহাম্মদ আরকানুল ইসলাম এবং আমজাদ হোসাইনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আরও অর্ধশতাধিক সম্মানিত নাগরিক। তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির পতাকাতলে শামিল হন।
অনুষ্ঠানে আগত নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে প্রধান অতিথি জাওয়াদুল করিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, "নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখা সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ ও তরুণ নেতৃত্ব আজ ভরসা করে এনসিপির রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। ফলে আমাদের দায়িত্বভার দিন দিন আরও বাড়ছে। আমাদের লক্ষ্য জনতার ক্ষমতাকে জনতার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া।"
এ সময় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, "এ দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ; এমপি, চেয়ারম্যান কিংবা অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা মূলত জনতার সেবক বা চাকরিজীবী। জনগণের এই মালিকানা ও অধিকার তাদের হাতেই পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে এনসিপি।"
কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমাদের এই লড়াই নিছক ক্ষমতার হাতবদলের নয়, বরং একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন 'নয়া বন্দোবস্ত' কায়েমের লড়াই। সামনের পথ কঠিন হলেও আজ এখানে নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা পুরোনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দেবে।" তিনি নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যদের নিজেদের পেশার জায়গায় এনসিপির একেকজন 'আদর্শিক যোদ্ধা' হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে আরও জানান, শুধু বাঁশখালী নয়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এনসিপিকে বরণ করে নিচ্ছেন। জনগণের এই অভূতপূর্ব সাড়া এবং যোগদান প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ একটি স্থায়ী ও গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়।
এ সময় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির বাঁশখালী উপজেলা নেতৃবৃন্দ আব্দুল আলিম, রিয়াজ উদ্দিন, আব্দুস সামাদ, ছৈয়দ মোহাম্মদ হোসাইন (ফাহিম), তাওহীদুল ইসলাম প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নতুন যুক্ত হওয়া এই তরুণ ও পেশাজীবী নেতাদের হাত ধরে বাঁশখালীতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত হবে এবং নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই আরও বেগবান হবে।






