বন্যাকবলিত কুহালংয়ের দুর্গম এলাকায় ৫৩ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

বন্যাকবলিত কুহালংয়ের দুর্গম এলাকায় ৫৩ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

বন্যাকবলিত কুহালংয়ের দুর্গম এলাকায় ৫৩ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১০ জুলাই) বান্দরবান সদর জোনের উদ্যোগে কুহালং ইউনিয়নের দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবান সদর জোন সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দল কুহালং ইউনিয়নের উনুচিং মং কারবারি পাড়া, উসই মং কারবারি পাড়া এবং বাকিছড়া মুখ এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এ সময় বন্যায় পানিবন্দি ৫৩টি পরিবারের হাতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেনা সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং বন্যা পরিস্থিতিতে নিরাপদে অবস্থান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
ত্রাণপ্রাপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের এলাকায় কোনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ তাদের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ মানবিক সহায়তার জন্য তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বান্দরবান সদর জোন জানায়, দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রদান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”