বন্য প্রাণী পাচারকালে হাতেনাতে ধরা, চকরিয়ায় যুবকের ১ বছরের জেল

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে আটক এক যুবককে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরহান সাদিক এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাদিস রহমান (৩০) ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছেলে।
এর আগে সোমবার বিকেলে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জের একটি বিশেষ অভিযানে চকরিয়া পৌরসভার ভাঙারমুখ এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাচারের প্রস্তুতিকালে একটি বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে উদ্ধার হওয়া বন্য প্রাণিগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর আটক ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জের বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, “মুখপোড়া হনুমান বাংলাদেশের অত্যন্ত বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া মুখপোড়া হনুমান ও কচ্ছপগুলো বর্তমানে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে সেগুলো ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূরজাহান বেগম বলেন, “বন্য প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কোথাও বন্য প্রাণী শিকার, অবৈধভাবে আটক বা পাচারের ঘটনা নজরে এলে দ্রুত বন বিভাগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বন্য প্রাণী পাচার রোধে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







